পাটগ্রামে জরিমানা, ইউএনও’র বিরুদ্ধে ‘মিথ্যা’ অভিযোগ দোকানির

হাসেম আলী

লালমনিরহাটের পাটগ্রামে দোকান বন্ধের নির্ধারিত সময় পার করায় এক দোকানিকে জরিমানা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মশিউর রহমান। সেই দোকানি এবার উল্টো মশিউর রহমানের বিরুদ্ধে ‘হুমকি-ধামকি’ ও ‘জোর করে’ জরিমানা করার অভিযোগ তুলেছেন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ইউএনওকে বিপদে ফেলতে স্থানীয় একজন কথিত সাংবাদিকের প্ররোচনায় এমন অভিযোগ তুলেছে ওই দোকানি।

গত বুধবার (১ জুলাই) লালমনিরহাট-১ আসনের সংসদ সদস্য মোতাহার হোসেন বরাবর এ অভিযোগ দেন দোকানি হাসেম আলী। তিনি উপজেলার রসুলগঞ্জের ৭ নম্বর পৌর কোটতলী এলাকার বাসিন্দা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত ২১ জুন সরকার ঘোষিত সময় অনুযায়ী বিকেল চারটার মধ্যে সব দোকানপাট বন্ধের নির্দেশ বলবৎ ছিল। ওইদিন নির্ধারিত সময়ের ৫ ঘন্টা পর রাত নয়টায় ভ্রাম্যমান আদালতের নিয়মিত তদারকিতে বের হন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মশিউর রহমান। এসময় পাটগ্রাম শহরের রেল ক্রসিংয়ের পাশে হাসেম আলীর দোকান খোলা থাকায় এক হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। পাশাপাশি সরকারি নিয়ম মেনে বিকেল চারটার মধ্যে দোকান বন্ধ করার হুঁশিয়ারিও দেয় ভ্রাম্যমান আদালত। এর চারদিন পর ২৫ জুন আবারও বিকেল চারটার পর দোকান খোলা রাখেন হাসেম। ওইদিন মশিউর রহমানের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমান আদালত দোকানের সামনে গেলে দোকান খোলা রেখেই পালিয়ে যান হাসেম। উপায়ন্তর না পেয়ে ওই দোকানের তালা লাগিয়ে আশপাশের মানুষজনকে বলা হয় ওই দোকান যাতে অনুমতি ছাড়া খোলা না হয়। এর পরদিন সকালে আবার তালা ভেঙ্গে দোকান খোলেন হাসেম। অনুমতি ছাড়া তালা ভেঙ্গে দোকান খোলায় পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ওই দোকান বন্ধ রাখার নির্দেশনা দিয়ে তালা দিয়ে ফিরে যায় ভ্রাম্যমান আদালত।

এ ঘটনার এক সপ্তাহ পর স্থানীয় সংসদ সদস্য বরাবর ইউএনও’র বিরুদ্ধে ‘হুমকি-ধামকি’ ও ‘জোর করে জরিমানা’ আদায়ের লিখিত অভিযোগ করেন হাসেম। লিখিত অভিযোগে বলা হয়, দুই দিনই ওই দোকানিকে জেল-জরিমানার হুমকি দিয়ে জোর করে জরিমানা আদায় করা হয়।

তবে স্থানীয় দোকানিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, হাসেম আলী দোকানপাট বন্ধের সরকারি নির্দেশ না মেনে অনেক রাত পর্যন্ত দোকান খোলা রাখতেন। এরপর ভ্রাম্যমান আদালত জরিমানা করলে তাঁর দোকান বন্ধ হয়ে যায়। পরে স্থানীয় এক কথিত সাংবাদিকের প্ররোচনায় আবার তালা ভেঙ্গে দোকান খোলেন হাসেম। এরপর ভ্রাম্যমান আদালতে পক্ষ থেকে দোকান ১ মাস বন্ধের কথা বলা হলে ওই সাংবাদিকের প্ররোচনায় এবার এমন ‘মিথ্যা ও বানোয়াট’ অভিযোগ তুলেছে ওই দোকানি।

এ বিষয়ে পাটগ্রাম সরকারি জসমুদ্দিন কাজী আব্দুল গণি কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি আফতাবুর রহমান আফতাব বলেন, ‘আমি  ওইদিকে যাতায়ত করার সময় ওই দোকানিকে প্রায় দেখেছি সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে রাত ১০ টা- ১১ টা পযর্ন্ত দোকান খোলা রাখে।’

এ বিষয়ে পাটগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুমন কুমার মহন্ত বলেন, ‘আমরা ওই দিন ইউএনওসহ করোনা আক্রান্ত ব্যক্তির বাড়ি লকডাউন করি। এ ছাড়াও  বিভিন্ন বাজারে সরকার ঘোষিত স্বাস্থ্যবিধি না মানা, নির্ধারিত সময়ের পর দোকানপাট খোলাসহ অকারনে আড্ডা দেওয়ার জন্য অভিযান পরিচালনা করি। এ সময় রাত প্রায় ৯ টার সময় পাটগ্রাম শহরের রেল ক্রসিংয়ের পাশে হাসেম আলীর দোকান খোলা থাকে। আমাদের দেখে দোকান থেকে সে পালিয়ে যায়। এর আগে সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে রাতে দোকান খোলা রাখার অপরাধে ভ্রাম্যমান আদালত তাঁর জরিমানা করেন।’

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে পাটগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মশিউর রহমান বলেন, ‘কামরান হাবীব নামে স্থানীয় এক ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে সাংবাদিক পরিচয়ে চাঁদাবাজি করে আসছিল। তাঁকে চাঁদাবাজি করতে নিষেধ ও বিভিন্ন সময় হুঁশিয়ারি প্রদান করায় দোকানিকে ব্যবহার করে এমন মিথ্য ও বানোয়াট অভিযোগ তোলা হচ্ছে। প্রকৃতপক্ষে, সরকারি নির্দেশ মোতাবেক যথাযথভাবে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে জরিমানা করা হয়েছে। কাউকে হুমকি-ধামকি দেওয়া হয়নি।’

#নিউজগার্ডিয়ান/এমআই/