দেশে জন্ম নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতির ব্যবহার বেড়েছে

সরকারিভাবে প্রচার-প্রচারণা আগের তুলনায় কমে গেছে। কিন্তু মানুষ নিজে নিজেই সচেতন হওয়ার ফলে বাড়ছে জন্ম নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতির ব্যবহার। এ ক্ষেত্রে জাতীয় পর্যায়ে যেমন বেড়েছে তেমনি পল্লী এবং শহর এলাকায়ও বৃদ্ধি পেয়েছে। সেই সঙ্গে আধুনিক পদ্ধতি ও যে কোনো পদ্ধতি উভয়েরই ব্যবহার বেড়েছে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এ সব তথ্য। ‘রিপোর্ট অন বাংলাদেশ স্যাম্পল ভাইটাল স্টাটিস্টিকস-২০১৯’ শীর্ষক প্রতিবেদনটি সম্প্রতি প্রকাশ করা হয়েছে। মনিটরিং দ্যা সিচ্যুয়েশন অব ভাইটাল স্টটিস্টিকস অব বাংলাদেশ (এমএসভিএসবি) তৃতীয় পর্যায় প্রকল্পের আওতায় এ প্রতিবেদন তৈরি করেছে সংস্থাটি।

জানতে চাইলে এমএসভিএসবি প্রকল্পের পরিচালক একেএম আশরাফুল হক বলেন, ‘এখন শিক্ষিতের হার বাড়ছে। তা ছাড়া আর্থ-সামাজিক অবস্থার প্রেক্ষাপটে সবাই চাচ্ছে পরিবার ছোট রাখতে। আমাদের জরিপে দেখা গেছে এখন ৮০ ভাগ পরিবারের সদস্য সংখ্যা ৪ জন। অর্থাৎ স্বামী-স্ত্রী এবং দুটি সন্তান। তবে মাত্র ২০ ভাগ পরিবারের মধ্যে তিনটি সন্তান পাওয়া গেছে। এর মানে হচ্ছে মানুষ এখন সচেতন। তা ছাড়া এখন মানুষ দুটি মেয়ে হলেও ছেলের জন্য আবার বাচ্চা নেয় না। তারা মেয়েকেও মানুষ মনে করে। এসব কারণে জন্ম নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতির ব্যবহার বাড়ছে।’

বিবিএস’র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৫ সালের জরিপে জাতীয়ভাবে জন্ম নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যবহারের হার ছিল ৬২ দশমিক ১ শতাংশ। পরবর্তীতে ২০১৬ সালে সেটি বেড়ে দাঁড়ায় ৬২ দশমিক ৩ শতাংশ। ২০১৭ সালে সেটি আরও কিছুটা বেড়ে হয় ৬২ দশমিক ৫ শতাংশ। ২০১৮ সালে আরও বেড়ে দাঁড়ায় ৬৩ দশমিক ১ শতাংশ। সর্বশেষ ২০১৯ সালের জরিপে সেটি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৩ দশমিক ৪ শতাংশ। পর্যালোচনা করলে দেখা যায় ধারাবাহিকভাবে জাতীয়ভাবে জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতির ব্যবহার বেড়েই চলছে।

প্রতিবেদনে দেখা গেছে, পল্লী এলাকায় ২০১৫ সালে জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যবহারের হার ছিল ৬০ দশমিক ৪ শতাংশ। সেটি কমে ২০১৬ সালে দাঁড়ায় ৫৯ দশমিক ৩ শতাংশে। ২০১৭ সালে সামান্য বেড়ে দাঁড়ায় ৫৯ দশমিক ৪ শতাংশ। ২০১৮ সালে সেই হার আরও বেড়ে হয়েছে ৬২ দশমিক ৪ শতাংশ এবং সর্বশেষ ২০১৯ সালে আরও বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬২ দশমিক ৭ শতাংশে।

এদিকে শহর এলাকায় জন্ম নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতির ব্যবহার ২০১৫ সালে ছিল ৬৪ দশমিক ৫ শতাংশ। ২০১৬ সালে সেটি কেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৫ দশমিক ৯ শতাংশ। ২০১৭ সালে সেটি আরও বেড়ে গিয়ে হয়েছিল ৬৬ দশমিক ৩ শতাংশ। কিন্তু ২০১৮ সালের জরিপে সেটি কিছুটা কমে যায়। ওই বছর জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতির হার দাঁড়ায় ৬৪ শতাংশে। তবে ২০১৯ সালের জরিপে সেটি আবার বেড়ে গেছে। এ সময় জন্ম নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যবহারের হার কিছুটা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৪ দশমিক ৪ শতাংশ।

এক প্রশ্নের জবাবে প্রকল্প পরিচালক বলেন, ‘জন্ম নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতির ব্যবহার শহর এবং গ্রামে কোন কোন বছর কিছুটা উঠানামা করলেও জাতীয়ভাবে গড় হিসেবে দেখা গেছে এটি ধারাবাহিকভাবে বেড়েই চলছে। অনেকের ধারণা এখন আগের মতো জন্ম নিয়ন্ত্রণ বিষয়ে সরকারি প্রচার প্রচারণা কমে গেছে। ফলে হয়ত আবার এই পদ্ধতির ব্যবহার কমে গেছে। কিন্তু এটি ভুল ধারণা। এখন সামাজিক অবস্থা এমন হয়েছে যে, স্বামী ও স্ত্রী দুজনেই দেখা গেছে চাকরি করেন। ফলে বেশি সন্তান লানন পালন করা তাদের জন্য কঠিন হয়ে যায়।  তাছাড়া একটি সন্তানকে মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে যে পরিমাণ অর্থ এবং সময় প্রয়োজন সেগুলো নিয়েও মানুষ ভাবতে শুরু করেছে। আগে যেমনটি ছিল শুধু জন্ম দিয়েই দায়িত্ব শেষ মনে করা হতো। গ্রামের মানুষ তো এটাও বলতো ‘আল্লাহ মুখ যখন দিয়েছে আহারও দেবে’। এখন সেই ধারণার পরিবর্তন এসেছে।’

আধুনিক পদ্ধতির ব্যবহার: প্রতিবেদনে পর্যালোচনা করে দেখা গেছে আধুনিক পদ্ধনিক পদ্ধতির ব্যবহার বেড়েছে। ২০১৫ সালের জরিপে আধুকি জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতির ব্যবহারের হার ছিল ৫৮ দশমিক ৪ শতাংশ। সেটি ২০১৬ সালে একই ছিল। ২০১৭ সালে সেটি বেড়ে হয়েছে ৫৯ দশমিক ২ শতাংশ। ২০১৮ সালে আরও বেড়ে হয়েছে ৬১ দশমিক ৬ শতাংশ। সর্বশেষ ২০১৯ সালের জরিপে এই হার আরও বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬২ দশমিক ৬ শতাংশে।

যে কোনো পদ্ধতির ব্যবহার: জন্ম নিয়ন্ত্রণের যে কোনো পদ্ধতি ব্যবহারের হার ধারাবাহিকভাবে বেড়ে চলেছে। ২০১৫ সালে এই হার ছিল ৬২ দশমিক ১ শতাংশ। ২০১৬ সালে সেটি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬২ দশমিক ৩ শতাংশ।

২০১৭ সালে এই হার আরও বেড়ে দাঁড়ায় ৬২ দশমিক ৫ শতাংশ। ২০১৮ সালে ৬৩ দশমিক ১ শতাংশ এবং সর্বশেষ ২০১৯ সালে এই হার বেড়ে দাঁড়ায় ৬৩ দশমিক ৪ শতাংশ।

নিউজ গার্ডিয়ান/ এমএ/