গরু না পেয়ে ছাগল কিনছেন ক্রেতারা

মহামারী করোনাভাইরাস পরিস্থিতির কারণে গোটা রাজধানীতেই পশুর হাট কম বসেছে। গত কয়েকদিন হাটে ক্রেতার উপস্থিতি সেভাবে জমজমাট ছিল না। কিন্তু আজ সকাল থেকে পাল্টে গেছে পরিস্থিতি। রাজধানীর কোরবানির হাটগুলোতে ক্রেতাদের ভিড় লক্ষণীয়। হাটে এখন পশু কম, কিন্তু সে তুলনায় কোরবানি দিতে ইচ্ছুক ক্রেতার সংখ্যা বেশি। তাই সময় গড়ানোর সঙ্গে হাটে পশুর দামও উঠানামা করছে।

শুক্রবার বিকেল থেকে গরুর হাটে গরু নেই, আবার কোথাও কোথাও অতিরিক্ত টাকায়ও মিলছে না পছন্দসই গরু। তাই কদর বেড়েছে ছাগলের। হাটে গরুর অপ্রতুলতা দেখা দেয়ায় শেষ মুহূর্তে এখন ছাগলই ভরসা।

শুক্রবার সকালে সরেজমিনে রাজধানীর বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখা গেছে, পাড়া-মহল্লা থেকে শুরু করে ছোট-বড় সড়কে ছাগলের অনির্ধারিত হাট বসেছে। যেখানে হাট সেখানেই মানুষের ভিড়। ছাগলের সরবরাহের তুলনায় ক্রেতার সংখ্যা বেশি হওয়ার সুযোগে বিক্রেতারাও অন্যান্য সময়ের চেয়ে ছাগলভেদে সর্বনিম্ন দুই হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা বেশি দাম চাইছেন। গরু কিনতে না পেরে একাধিক ছাগল কিনে নিয়ে যাচ্ছেন অনেকে।

শুক্রবার (৩১ জুলাই) সকালে খিলগাঁও রেলগেট সংলগ্ন মৈত্রী সংঘের খেলার মাঠে গিয়ে দেখা গেছে, পুরো মাঠ ফাঁকা। মাঠে কোরবানির পশু নেই। তবে মাঠ সংলগ্ন প্রথম সড়কে কয়েকটি ছোট আকারের গরু দেখা গেছে। ক্রেতারা জানিয়েছেন, হাটে গরু নেই। যে কয়েকটি আছে তারও দাম অনেক চড়া। দাম নাগালের বাইরে থাকায় অনেকেই এখনও কোরবানির পশু কিনতে পারেননি।

জানতে চাইলে কুষ্টিয়া থেকে ছয়টি গরু নিয়ে আসা আশরাফ উদ্দিন বলেন, ‘ভেবেছিলাম করোনার কারণে মানুষ এ বছর বেশি কোরবানি দেবে না। তাই খামার থেকে বেশি করে গরু আনিনি। এখন দেখি ঈদের দুই দিন আগেই হাটে গরু শেষ হয়ে গেছে।’ তিনি বলেন, ‘বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দুপুরের আগেই চারটি গরু ৬২ হাজার থেকে ৬৫ হাজার টাকা করে বিক্রি করেছি। আর আজ শুক্রবার ওই একই সাইজের গরু বিক্রি হচ্ছে ৮৫ থেকে ৯০ হাজার টাকা। মানুষ মাঝারি আকারের গরু বেশি কিনছে। বড় গরুতে হাত দিচ্ছেন না।’

ট্রাকে করে এখনও কিছু গরু আসছেগরু না থাকায় গত রাত থেকেই এই হাটটি পরিষ্কারের কাজ করছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। সকালের মধ্যে মূল হাটের বাঁশ খুঁটি অপসারণ করা হয়েছে। ইজারাদার জানিয়েছেন, গরু না থাকায় হাসিল ঘরে তারা অলস সময় কাটাচ্ছেন। এ কারণে এ বছর তাদের লোকসানে পড়তে হবে।

মেরাদিয়া হাটেও দেখা গেছে একই চিত্র। এই হাটও সকালের মধ্যে অনেকটাই ফাঁকা হয়ে গেছে। ক্রেতারা ঘুরে বেড়াচ্ছেন। দাম একটু বেশি হলেও তারা গরু কেনার চেষ্টা করছেন। আর বিক্রেতারা গরু ছাড়তে চাচ্ছেন না। হাটে পর্যাপ্ত গরু না থাকায় বিক্রেতারা অপেক্ষাকৃত বেশি দাম চেয়ে বসে আছেন।

জানতে চাইলে নাটোর থেকে আসা গরুর বেপারি আশরাফুল ইসলাম বলেন, ‘বৃহস্পতিবার সকালের দিকেই বুঝতে পেরেছি গরুর সংকট দেখা দেবে। তখন বাড়ি থেকে আরও ছয়টি গরু নিয়ে এসেছি। সেগুলো একটু আগে হাটে এসে পৌঁছেছে। দাম যথেষ্ট ভালো বলছে। আরও একটু দাম পেলে বিক্রি করে দেবো।’

আফতাবনগর হাটেও নেই গরু। বিক্রেতারা জানিয়েছেন, গত রাতেই হাটের গরু শেষ হয়ে গেছে। এখন মাঝে মধ্যে ২/১টি ট্রাকে গরু আসছে, তবে আসার সঙ্গে সঙ্গে বিক্রি হয়ে যাচ্ছে। বিক্রেতারা জানান, বড় গরু বিক্রি হচ্ছে কম। এর কারণ হিসেবে তারা বলছেন, বড় গরুর দাম বেশি। করোনার কারণে অনেকের হাতে সেভাবে টাকা নেই। তাই অন্যান্য বছর যারা দুই লাখ টাকা দামের গরু ‍দিয়ে কোরবানি দিতেন, এ বছর তারা এক লাখ টাকার গরুও কিনতে আগ্রহী হচ্ছেন না।

তবে গাবতলী হাটে গিয়ে কিছুটা ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। এই হাটে এখনও যথেষ্ট পশু দেখা গেছে। পাশাপাশি একের পর এক গরুবোঝাই ট্রাক আসছে। এখানকার একাধিক পশু ব্যবসায়ী বলেছেন, সন্ধ্যার মধ্যে এই হাটে আরও গরু আসবে।

পাবনা থেকে আসা গরু ব্যবসায়ী রাজিব মিয়া বলেন, ‘আগে যে ব্যক্তি তিনটি গরু দিয়ে কোরবানি দিতেন, এবার সেই একই ব্যক্তি একটির বেশি পশু কোরবানি দিচ্ছেন না। আবার যারা বেশি দামের গরু কোরবানি দিতেন, তারা এবার অপেক্ষাকৃত ছোট গরু কোরবানি দিচ্ছেন। যে কারণে বড় গরু বিক্রি হচ্ছে কম।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজধানীর অন্যান্য পশুর হাটও দুপুরের পর থেকে ফাঁকা হয়ে গেছে।

নিউজ গার্ডিয়ান/ এমএ/