পদ্মাসেতু প্রকল্পে ভয়াবহ ভাঙন, নদীগর্ভে রোড স্ল্যাব

পদ্মার তীরে মাওয়া-শিমুলিয়া ঘাটের অদূরে পদ্মাসেতু এলাকায় আচমকা ভয়াবহ ভাঙন শুরু হয়েছে। নদীর পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে এই ভাঙনে এরই মধ্যে কয়েকশ ফুট এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ওই এলাকাতে রাখা ছিল অর্ধশতাধিক রোড স্ল্যাব। সেগুলোও চলে গেছে নদীতে।

শুক্রবার (৩১ জুলাই) দুপুর ২টার দিকে পদ্মাসেতুর কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ডের নদী তীরে এই ভাঙন শুরু হয়। এর কাছেই শিমুলিয়া ঘাট।

পদ্মাসেতুর একজন প্রকল্প কর্মকর্তা ঘটনাস্থল থেকে জানান, চোখের সামনে প্রকল্পের কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ডের একটি বড় অংশ নদীগর্ভে চলে গেছে। ভাঙন এখনো অব্যাহত রয়েছে। শতাধিক রোড স্ল্যাব পদ্মায় তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

প্রকল্প সংশ্লিষ্ট ওই কর্মকর্তা আরও জানান, যেখানে ভাঙন শুরু হয়েছে সেটা কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ডের পেছনের অংশ। প্রি-কাস্ট রড সবগুলো সেখানেই রাখা ছিল।

মূল সেতুর সড়কপথ তৈরির জন্য মোট ২ হাজার ৯১৭টি রোডওয়ে স্ল্যাব প্রয়োজন হবে। এর মধ্যে কেবল ৭৫০টি স্ল্যাব স্থাপন করা হয়েছে। বাকিগুলোর নির্মাণ কাজ চলছে কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ডে। তার মধ্য থেকেই অর্ধশতাধিক স্ল্যাব তলিয়ে গেল নদীতে। ভাঙন অব্যাহত থাকলে কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ডের আরও অংশ যদি নদীগর্ভে বিলীন হয়, তাহলে বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে, পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য বলছে, আগস্টের প্রথমার্ধে পদ্মা নদীর পানি কমতে শুরু করবে। এর মধ্যে পানি নামতেও শুরু করেছিল পদ্মাসেতু এলাকার মাওয়াসহ কয়েকটি পয়েন্টে। তার মধ্যেই শুরু হলো ভয়াবহ ভাঙন।

গত কয়েকবছরের মধ্যে এ বছরই যেন পদ্মার প্রমত্ত রূপটা বেশি দৃশ্যমান। এর আগে মঙ্গলবারও প্রবল স্রোতে শিমুলিয়া ৩ নম্বর রো রো ফেরিঘাট নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। অথচ সেটিই ছিল শিমুলিয়ার প্রধান ঘাট। ঘাটটি তলিয়ে যাওয়ায় শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ি নৌরুটে গণপরিবহন পারাপারে ব্যাপক চাপ তৈরি হয়েছে। ফলে ঈদ সামনে থাকায় ব্যাপক ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে এই রুটে চলাচলকারীদের।

নিউজ গার্ডিয়ান/ এমএ/