‘একটি গ্রামের গল্প’

মোঃ খোরশেদ আলম:

পল্লী এলাকার সর্বনিম্ন প্রশাসনিক একক ইউনিয়ন গঠিত হয় গ্রাম চৌকিদারি আইন ১৮৭০ এর অধীনে । ইউনিয়নের আরো একটি ক্ষুদ্র ভাগ ওয়ার্ড। কামারখোলা গ্রাম টি মাইজখার ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের অন্তর্ভুক্ত, উক্ত ওয়ার্ডের বর্তমান মেম্বার এই গ্রামেরই কৃতি সন্তান কামারখোলা পশ্চিম পাড়া করমন্দের বাড়ির সুযোগ্য সন্তান জনাব জয়নাল আবেদীন জুনু মেম্বার সাহেব।গ্রামের লোক সংখ্যা ১৫০০। গ্রামের আইন শৃঙ্খলা ঠিক রাখার জন্য মেম্বার সাহেব সর্বদা নিয়োজিত আছেন। সরকারি প্রতিষ্ঠান রয়েছে ২টি যথাক্রমে ১। কামারখোলা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ২। গ্রামভিত্তিক কমিউনিটি ক্লিনিক। বে-সরকারি প্রতিষ্ঠান ২টি,১। কামারখোলা ফোরকানিয়া মাদ্রাসা ২।খানকায় ওয়াজেদিয়া, কামারখোলা ।

মসজিদ রয়েছে ৪টি-
১। কামারখোলা পশ্চিম পাড়া কমিউনিটি কমপ্লেক্স জামে মসজিদ
২। কামারখোলা শাহী ঈদগাহ জামে মসজিদ
৩। কামারখোলা উত্তর পাড়া ভূঁইয়া বাড়ি জামে মসজিদ
৪।কামারখোলা পূর্ব পাড়া ভূঁইয়া বাড়ি জামে মসজিদ। ঈদগাহ ১ টি ,কামারখোলা শাহী ঈদগাহ।

কামারখোলা গ্রামের প্রায় শতকরা ৯০ ভাগ লোক প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে কৃষির উপর নির্ভরশীল। চান্দিনা উপজেলায় প্রতিবছর ১৭ শত মেট্রিক টন খাদ্যশস্য উদ্ধৃত থাকে যার সিংহ ভাগ কামারখোলা সহ আশে পাশের গ্রামের কৃষকরাই উৎপাদন করে থাকে ( জাতীয় তথ্য বাতায়ন)। ১৫০০ জনসংখ্যার এই গ্রামে প্রায় শতকরা ৯৮.৮২ ভাগ ইসলাম ধর্মের অনুসারী (সুন্নি)।বাকি লোকজন সনাতন হিন্দু ধর্মাবলম্বী। এই গ্রামে মুসলিম ও হিন্দু ধর্মাবলম্বী ছাড়া অন্য কোন ধর্মের অনুসারী নেই। এই গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে গেছে ঐতিহ্যবাহী কার্জন খাল।

কুমিল্লা ডিভিশন, বাংলাদেশ ডাক বিভাগের, বর্তমান ডিপিএমজি, জনাব মোস্তাফা কামাল ও যুগ্ম জেলা জজ আবুল হাসনাত এই গ্রামের কৃতি সন্তান। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের রণাঙ্গনের ৪ জন বীর মুক্তিযোদ্ধা যথাক্রমে মোঃ সেকান্দর আলী,মৃত রমিজ উদ্দিন, মৃত শামছুল আলম ও মো: আক্তারুজ্জামান ভূঁইয়ার বাড়িও এই একই গ্রামে।এই গ্রামে পরিবারের সংখ্যা প্রায় ৬০০ টি। এই গ্রামে ভিজিডি কর্মসূচীর আওতায় ৩০ কেজি চাল দেওয়া হয়। যেসব পরিবারের কর্তা কোনো কাজ করতে পারে না। এই চাল বিনা মূল্যে দেওয়া হয়। ১০ টাকা কেজি চাল দেওয়া হয় হত দরিদ্র পরিবারের মাঝে, যেখানে সরকার ভর্তুকি দিতে হয় প্রতি কেজি তে প্রায় ৩০ টাকা। ৫০০ টাকা করে বিধবা ভাতার আওতায় আছে ১৫ জন নারী। ৭৫০ টাকা করে প্রতিবন্ধী ভাতা গ্রহণ করেন ৪ জন। মাতৃত্বকালীন ৮০০ টাকা ও স্বামী পরিত্যক্তা ৫০০ টাকার আওতায় রয়েছেন ২০ জন নারী।

এছাড়া সরকারি বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর সুবিধা ভোগী এই গ্রামের প্রায় ৪০ শতাংশ লোক।বাংলাদেশে এই রকম গ্রামের সংখ্যা প্রায় ৫৬ হাজার। গ্রামের জনসংখ্যার ভিত্তিতে ভাতাভোগী লোক সংখ্যা নির্ধারণ করা হয়। উল্লেখিত ভাতাই নয় শেখ হাসিনার সরকার নিশ্চিত করেছেন শিক্ষা ভাতা, উপবৃত্তি ও মুক্তিযোদ্ধা ভাতা । সম্প্রতি প্রতিটি গ্রামে গ্রামে দলিত হরিজন সম্প্রদায় ও হিজরা ভাতা দেওয়ার জন্য তালিকা তৈরি করা হচ্ছে।

সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী আরও সুদৃঢ় করতে ও সামাজিক কাঠামোগত ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের লক্ষ্যে এই বারের বাজেটে বরাদ্দ রেখেছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রায় ৯৬ হাজার কোটি টাকা, যা গত বাজেটে ছিলো ৮২ হাজার কোটি টাকা। করোনার মহামারীর জন্য প্রবীণ ব্যক্তি কে নতুন করে ভাতার আওতায় আনা হবে। জাতীয় ভাবে আরও ৫ লাখ নতুন সুবিধা ভোগী যোগ হবে। ৩ লাখ বিধবা ও স্বামী পরিত্যক্তা কে নতুন করে ভাতার আওতায় আনা হবে।মোট ১৮ লাখ অস্বচ্ছল প্রতিবন্ধী কে ভাতার আওতায় আনা হবে( জাতীয় তথ্য বাতায়ন)। ফলে বাংলাদেশের ৪৫৭১ টি ইউনিয়নের বাজেট বরাদ্দ বাড়বে ,যার ফলে গ্রাম ভিত্তিক সামাজিক নিরাপত্তার আওতার সুবিধা ভোগী জনগণ ও বাড়বে কামারখোলা সহ বাংলাদেশের প্রতিটি গ্রামের।

লেখক:
মোঃ খোরশেদ আলম
পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অফিস
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর

নিউজ গার্ডিয়ান/ এমএ/