‘চান্দিনার কামারখোলায় ১০০ ফুঁট উচ্চতার মিনারা মসজিদ’

newsguardian24.net

মোঃ খোরশেদ আলম:

অবিশ্বাস হলেও সত্যি, লোক মুখে প্রচার চান্দিনার কামারখোলা গ্রামে একটি ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন জনাব মো: আ: বাতেন মিয়া।তিনি এই গ্রামের এক ধর্মপ্রাণ সমাজ সেবক ও অত্র এলাকার পরিচিত মুখ। ইচ্ছা থাকলে উপায় হয় এই চিরন্তন প্রবাদ বাক্যটি যেমন সত্য তেমনি লক্ষ্য যদি থাকে অটুট একদিন স্বফলতা আসবেই।

কবি গুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভাষায় বলতে হয়, ছোট ছোট বালু কণা আর বিন্দু বিন্দু জল, গড়ে তোলে মহাদেশ সাগর ও অতল। এই কবিতাটুকু পড়লে মনে হয় কবি গুরু কোন বাস্তব ঘটনা থেকেই কবিতাটি রচনা করেছিলেন।

কুমিল্লা জেলার চান্দিনা উপজেলার অন্তর্ভুক্ত ৯ নং মাইজখার ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ডের কামারখোলা গ্রামের পশ্চিম পাড়ার জামে মসজিদটি ছিল শতবর্ষী। কোন পূর্ব সিদ্ধান্ত ছাড়াই. গত ২০১৮ সালের শেষের দিকে মাত্র ৫০ হাজার টাকা আর্থিক অনুদান হাতে নিয়ে মো: আ: বাতেন সাহেব নিজ উদ্যোগে এই শতবর্ষী মসজিদটি ভেঙ্গে ফেলেন । তারপর এলাকাবাসীকে জড়ো করে মসজিদটি কিভাবে ১০০ ফুঁট উচ্চতার মিনারা মসজিদ তৈরি করা যায়, এই বিষয়ে আলোচনা করেন এবং মসজিদের পাশেই রাস্তায় টেবিল কালেকশন শুরু করেন।

কোরবানির ইদ পর্যন্ত হিসাবে রাস্তার টেবিল কালেকশন হয়েছে প্রায় ২.৫ কোটি টাকা। টেবিল কালেকশনে গড়ে ১০ হাজার থেকে ১২ হাজার টাকা দান পাওয়া যায়, যা এখনও চলমান(সূত্র: এলাকাবাসী)।শুরুতে এলাকাবাসী বাতেন সাহেবের ইচ্ছার উপর বিশ্বাস ও অবিশ্বাসের আলোছায়া নিমজ্জিত ছিলেন।

যাইহোক তিনি শেষ পর্য ন্ত দুই তলা ও ১০০ ফুঁট উচ্চতার মিনারা মসজিদের কাজ সমাপ্ত করিয়ে দেখিয়ে দিয়েছেন।তৃতীয় তলার কাজ নির্মাণধীন রয়েছে।যেন মনে হচ্ছ ইচ্ছা ও ভালোবাসা দিয়ে লক্ষ্যে অটুট থাকলে, যে কোন কাজই স্বফলতা অর্জন করা যায়।মসজিদের ভিতরে ডিজিটেল ঘড়ি ও ডেসপ্লেতে মসজিদের নাম সহ বাহারি টাইলসের ডিজাইন রয়েছে।

মসজিদটি সম্পূর্ণ শীতাতপ নিয়ন্ত্রীত আর ১০০ ফুঁট উচ্চাতার মিনারটির উপর উঠে কামারখোলা গ্রামসহ আশেপাশের গ্রামের আকাশ ভিউ দেখা যায়।তাই প্রতিদিন প্রচুর মানুষ মসজিদটি দেখতে আশে ও মসজিদে মুক্তহস্তে দান করে।মসজিদ কমিটির একাধিক সদস্যের মতে ১০০ ফুঁট উচ্চতার মিনারা সমজিদটি ওয়াচ টাওয়ার হিসেবে স্থানীয় পর্যটকদের জন্য একটি আশ্চার্য জনক স্থাপনা হিসেবে সরকারের রক্ষনাবেক্ষণ ও নামমাত্র বিদ্যুৎ বিলে মসজিদটি পরিচালিত হবে বলে এলাকাবাসী আশাবাদী।

মসজিদের পেশ ইমাম সাহেব মুফতি মাওলানা মাসুম বিল্লাহ ও মোয়াজ্জেম হাফেজ সুরুজ্জামান জানান – প্রতিদিন ৪ থেকে ৫০ জন মুসল্লি ও শুক্রবারে জুমার নামাযে অন্তত পাঁচ শতাধিক মুসল্লি অনেকটা আগ্রহ নিয়ে এই মসজিদে নামায আদায় করেন। কামারখোলা গ্রামের ১০০ ফুঁট উচ্চতার মিনারা মসজিদ হিসেবে লোক মুখে প্রচার বৃহত্তর কুমিল্লা জেলার একটি ইতিহাস সৃষ্টি করেছে।

লেখক- মোঃ খোরশেদ আলম, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অফিস, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়,রংপুর ও সাবেক ছাত্র অর্থনীতি বিভাগ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, সাভার, ঢাকা।

নিউজ গার্ডিয়ান/ এমএ/