সাবরিনা সালামের কবিতা ‘মৃত্যু চেতনার’

ভীষণ আর্তনাদে ব্যাঘাত নিদ্রায় যেনো বিধে গেলো কোন ক্ষেপণাস্ত্র,
সারা আত্মার বিভীষিকাময় চিৎকার,
সহস্র দেয়াল ভেদ করে যায় ভয়াবহ সেই হুংকার।
কোন অবয়বের ছিটেফোঁটাও নেই।

বন্ধ হলো নয়নদ্বয় মৃত্যু চেতনার।

ভিড় ঠেলে যেতেই কোমরে যেনো এক মারণাস্ত্র ছুঁয়ে গেলো।
সাদা কাগজে যেনো দোয়াতের নৃত্য।
চোখের সামনে ভাসমান মানুষরুপি জানোয়ারের তান্ডব।
গলার স্বরে তাগাদ দিবো এমন সময় চেতনায় উদয় হলো,
এ কী? এক পরিচিত মুখোশ!

আবারো-
বন্ধ হলো নয়নদ্বয় মৃত্যু চেতনার।

ভুলে গিয়ে প্রয়াত পাতা ঠোঁটের কোণে হাসির রেখা,ঘুমের ঘোরে শব্দে ভাসি।
নিকোটিনের ধোঁয়ায় ভাসে আমার স্বামীর রুম টা। গুটি পায়ে চেপে আগ্নেয়গিরির পথে আমি দিলাম পাড়ি,

সে আমায় ভালোবাসে,সম্মান শব্দ কোথা হতে আসে?

এসব ভাবা অন্যায়,আবারো-
বন্ধ হলো নয়নদ্বয় মৃত্যু চেতনার।

উষার তাবুতে রোদের স্রোত,আলয়ের শত প্রয়োজন।
তার কলিগদের জন্য ঘরে বেশ আয়োজন।
ডাক পড়লো কলিংবেলে,একরাশ ব্যস্ততা নিয়ে অস্ফুট স্বরে খুলে দিলাম খিল টা।
সম্ভাষণের জোয়ারে পঞ্চমুখ হলাম,খানিক আগের সুনামি নিশ্চিহ্ন রচনায়।
আমায় দেখে রহস্যভরা হাসি,এ যে সেই জানোয়ার।
নাহ এতো মানুষ!
মানুষ জানোয়ার নাকি জানোয়ারই মানুষ?

বুঝতে দেওয়া অন্যায়-
বন্ধ হলো নয়নদ্বয় মৃত্যু চেতনার।

সমাজের রীতিতে পিষে যাওয়া বিবেক নামক গোলাপ।
রীতিনীতির দাসত্ব মগজে পুরে দেয় জ্বলন্ত কয়লা,নেই কেড়ে বাকশক্তি।
এরা শুধু দায় বর্তায়,বেদনার ভাগ কখনো নিবে কী হায়?
পরিচিত মুখগুলো মুখোশ ছাড়িয়ে নির্জনে হায়েনা হয়ে যায়।

আমার অস্তিত্ব ভেসে যায় বিসর্জনের স্রোতে
বন্ধ হলো নয়নদ্বয় মৃত্যু চেতনার।

নিউজ গার্ডিয়ান/ এমএ