অস্ত্রসহ ৬ রোহিঙ্গা আটক, তিন বছরেও হয়নি প্রত্যাবাসন

কক্সবাজারের টেকনাফের পুটিবনিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অভিযান চালিয়ে অস্ত্রসহ ৬ জন রোহিঙ্গাকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। আটককৃতদের টেকনাফ মডেল থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সন্ধ্যার দিকে হোয়াইক্যং ইউনিয়নের উনচিপ্রাং পুটিবনিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এ অভিযান চালায়। এ সময় আটক ৬ রোহিঙ্গার কাছ থেকে দেশীয় একনলা দুইটি বন্দুক, কিরিচ, সাত রাউন্ড কার্তুজ উদ্ধার করা হয়।

আটককৃতরা হলেন, ওই ক্যাম্পের রহমত উল্লাহ’র ছেলে নুর হোসেন, হাবিবুল্লাহর ছেলে জাফর আলম, জহুর মল্লিকের ছেলে মো. আলম, আহমদ হোসেনের ছেলে আব্দু রহমান, নুর হোসেন, আবু সামার ছেলে আবু সাদেক, আব্দু সালামের ছেলে মো. আমিন, শাহ আলমের ছেলে মো. সাদেক ও বালুখালী শিবিরের নজির আহমদের ছেলে মো. আমান উল্লাহ। পরে তাদের মধ্য থেকে তিন জনকে ছেড়ে দেয়া হয়।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সূত্রে জানা যায়, উনচিপ্রাং পুটিবনিয়া ২২ নং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এ ব্লকের মধ্যে আল ইয়াকিন (রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী দু’গ্রুপ) ৩০/৩৫ রাউন্ড গুলি ফায়ার করে ক্যাম্পে আতংক সৃষ্টি করে। পাশাপাশি রোহিঙ্গদের অনেক ঘর বাড়িতে হানা দেয়া হয়। বিষয়টি ভয়াবহ অবস্থা সৃষ্টির প্রাক্কালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান চালিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

রোহিঙ্গা ক্যাম্প

পুলিশের ক্যাম্প ইনচার্জ মো. আনোয়ার হোসেন জানান, কিছু দূস্কৃতকারী রোহিঙ্গা বেশ কিছুদিন ধরে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে মারমুখী অবস্থানে ছিল। এরই প্রেক্ষিতে আজকে খারাপ পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে অভিযান চালিয়ে ওইসব অস্ত্রসহ ৯ জন আটক করা হয়েছিল। সেখান থেকে যাচাই বাছাই করে তিনজনকে ছেড়ে দেয়া হয়। বাকি ৬ রোহিঙ্গাকে টেকনাফ থানায় সোপর্দ করা হয়েছে। থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ধরে রোহিঙ্গা শিবিরগুলোতে অপরাধমূলক কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। এরই মধ্যে বাংলাদেশে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের আশ্রয় ৩ বছর পার হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বা বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে রোহিঙ্গাদের তাদের দেশে ফিরিয়ে নিতে বা প্রত্যাবাসনে এখনো কোনো অগ্রগতি নেই। সেবা সংস্থাদের কেউ কেউ বলছেন বর্তমানে প্রাণঘাতী রোগ করোনাভাইরাসের কারণে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া থেমে আছে।

করোনা সংকটেও রোহিঙ্গাদের বিষয়ে আলোচনার কোন ক্ষেত্র তৈরি হয়নি। অতএব কবে নাগাদ রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু হবে, তা নিশ্চিত কোন দায়িত্বশীল সংস্থা বলতে পারছে না।

রোহিঙ্গা শরনার্থী

জানা যায়, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের লক্ষ্যে মিয়ানমারকে যাচাই-বাছাই শেষে চার দফায় এ পর্যন্ত প্রায় ছয় লাখ লোকের নামের তালিকা দেওয়া হয়েছে। এরমধ্যে মাত্র ১০ হাজার রোহিঙ্গার নাম যাচাই-বাছাই করেছে মিয়ানমার। সর্বশেষ চলতি বছর ১৮ মার্চ মিয়ানমারের কাছে চার লাখ ৯২ হাজার রোহিঙ্গার তালিকা হস্তান্তর করা হয়। সেই তালিকা হস্তান্তরের পর করোনাভাইরাসের প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় প্রত্যাবাসনে বাধা হয়ে দাড়ায়।

বাংলাদেশের পক্ষ থেকে মিয়ানমারকে চার দফায় রোহিঙ্গা তালিকা যাচাই-বাছাইয়ের জন্য দেওয়া হলেও সে প্রক্রিয়া অত্যন্ত ধীরগতিতে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে মিয়ানমারকে এ তালিকা দ্রুত যাচাইয়ের জন্য তাগিদ দেওয়া হলেও তারা করেনি। চলতি বছরের জুনের শেষ দিকে রাখাইনে নতুন করে সেনা অভিযান শুরু করেছে মিয়ানমার। আরাকান বিদ্রোহীদের দমনে এই অভিযান পরিচালনা করছে দেশটি। বিদ্রোহীদের দমনের লক্ষ্যে আরাকানের ১০ হাজার স্থানীয় বাসিন্দাকে এলাকা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। যে কারণে রোহিঙ্গাদের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।

কক্সবাজারস্থ শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মো. মাহবুব আলম তালুকদার বলেন, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে বাংলাদেশে সবসময় প্রস্তুত রয়েছে। প্রক্রিয়া দ্রুত শুরুর লক্ষ্যে কাজ করছে সরকার। শুরু থেকে বাংলাদেশ বলে আসছে কোনো রোহিঙ্গা নাগরিককে জোর করে মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো হবে না।- সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজ গার্ডিয়ান/ এমএ/