এখনই চলচ্চিত্রে আসতে ভয় করছে: মানতাশা

ঢাকা: লাক্স সুপারস্টার হয়ে শোবিজে পা রাখেন মিম মানতাশা। লেখাপড়া আর অভিনয় করছেন ব্যালেন্স করে। চলচ্চিত্রে পা রাখতেও প্রস্তুত তিনি। এই তারকার সঙ্গে কথা বললে তিনি যা জানান-

সুপার মডেল চরিত্রে…

করোনার কারণে দীর্ঘসময় ঘরবন্দি থাকলেও গত মাস থেকে অভিনয়ে ফিরেছি। এরই মধ্যে দুটি খন্ড নাটক করেছি। জাতীয় কবির মৃত্যুবার্ষিকীতে ‘জিনের বাদশা’ নামের একটি নাটকে অভিনয় করেছিলাম। আর এ মাসের শুরুর দিকে করেছি সাজ্জাদ সনির পরিচালনায় ‘কড়া লিকার’। এই নাটকে একজন সুপার মডেলের ভূমিকায় অভিনয় করেছি। চরিত্রটির মাধ্যমে কিছু মেসেজ দর্শকের সামনে উপস্থাপন করা হবে। আশা করছি এটি দর্শকের ভালো লাগবে। আমার বিপরীতে অভিনয় করেছেন ইরফান সাজ্জাদ। যখন লাক্স সুপারস্টার প্রতিযোগিতায় ছিলাম, তখন অভিনয় পর্বে আমার প্রথম নায়ক ছিলেন তিনি। শুরু থেকেই তিনি আমাকে অনেক সহযোগিতা করেছেন। তার সঙ্গে কাজ করতে সব সময় ভালো লাগে।

লেখাপড়া-অভিনয়…

লাক্স সুপারস্টার হয়ে অনেকে নিয়মিত কাজ করেন। কিন্তু আমি পড়াশোনাটা চালিয়ে যেতে চেয়েছি। তাই অন্যদের তুলনায় কম কাজ করেছি। আমি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে চারুকলা বিভাগে পড়ছি। করোনার আগে মাস্টার্স ফাইনাল এক্সাম ছিল। শেষ না হতেই লকডাউন শুরু। ভেবেছিলাম পরীক্ষা শেষে পুরোদমে কাজ করব। কিন্তু পরিকল্পনা ভেস্তে দিল করোনা। অনেক দিন ঘরেই ছিলাম। রোজার ঈদেও কোনো কাজ করিনি। পর্দায় নিয়মিত না থাকলেও আমার কাছে অভিনয়ের প্রস্তাব প্রত্যাশার থেকেও বেশি আসে। কিন্তু আমি ‘ধীরে চলো’ নীতিতে বিশ^াসী। তাই বেছে বেছে নাটকে অভিনয় করি। কোরবানির ঈদে বেশ নাটকের প্রস্তাব পাই। তখন ভাবলাম, সবাই যেহেতু করছে, আমিও করি। তিনটি নাটক প্রচার হয়েছিল।

সোশ্যাল মিডিয়া…

আমি অনেকটাই ওল্ড স্কুল। সোশ্যাল মিডিয়ায় খুব বেশি অ্যাকটিভ নই। নাটকের প্রমোশন, নিয়মিত পোস্ট দেওয়া, কিছুই করি না। তাই হয়তো দর্শক ভাবেন আমি একদমই কাজ করি না। এ জন্য আমার কাজের দর্শকসাড়া কেমন সে বিষয়েও খুব ক্লিয়ার কিছু জানি না। কিন্তু লকডাউনে হাতে অবসর সময় পাওয়ায় আগের চেয়ে একটু অ্যাকটিভ হয়েছি। তাই কোরবানির ঈদের কাজগুলোয় বেশ ভালো সাড়া পেয়েছি।

সিনেমার জন্য প্রস্তুত, তবে…

এত দিন ছোটপর্দায় কাজ করে কমবেশি অভিজ্ঞতা হয়েছে। আমি এখন চলচ্চিত্রের জন্য প্রস্তুত। কথাবার্তাও চলছিল। কিন্তু এ ক্ষেত্রেও করোনা বাগড়া দিল। এখন যে অবস্থা তাতে সিনেমা হল কবে খুলবে, তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। তাই এখনই চলচ্চিত্রে আসতে ভয় লাগছে। চলচ্চিত্র নিয়ে আবারও নতুন করে ভাবতে হবে। এমনিতেই আমাদের দেশে গৎবাঁধা গল্পের কাজই বেশি হয়। ভালো সিনেমা হলে অবশ্যই করব। বাণিজ্যিক সিনেমার ক্ষেত্রে আমার বিবেচ্য বিষয় হলো কীভাবে আমাকে প্রেজেন্ট করা হবে। আর আর্ট ফিল্মের ক্ষেত্রে গল্প হতে হবে আউটস্ট্যান্ডিং। আর দুই ক্ষেত্রেই পরিচালক আমার কাছে খুব গুরুত্বপূর্ণ। ভালো পরিচালক না হলে কাজ করব না।-দেশ রূপান্তর

নিউজ গার্ডিয়ান/ এমএ/