জাবিতে লাল শাপলার জলে পাখিদের মধুর আড্ডা

জুঁই ভৌমিক

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়: বিশাল বিশাল লেক জুড়ে তারার মত লাল শাপলা। আর সেসব জলতারাদের ঘিরেই জমে ওঠে পাখিদের আড্ডা।

প্রতিবছরের মত এবারও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় মুখর হয়েছে পাখিদের মধুর আড্ডায়। ১৯৮৬ সাল থেকেই পাখি আসার তথ্য পাওয়া যায়। তবে নিয়মিত আসছে ১৯৮৮ সাল থেকে। শীতের শুরুতে ডানায় ভর করে প্রায় ৬৯ প্রজাতির পরিযায়ী পাখি সুদূর সাইবেরিয়া, মঙ্গোলিয়া, নেপাল, চীন থেকে আসতে শুরু করে। শুধু তীব্র শীত থেকে বাঁচতে। তবে এবছর এদের অন্তত পাঁচ প্রজাতির পাখি কম এসেছে। কারণ হিসেবে ধারণা করা হচ্ছে পাখির বাস উপযোগী পরিবেশ ও খাদ্যের অভাব।

ডাঙাবাসী, জলচর দুইপ্রকার পাখিই আসে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে। পাতিসরালি, বড় সরালি, পাতারি, ফ্লাইক্যাচার, গার্গেনি, পান্তামুখী, পচার্ড, ছোট জিরিয়া, মুরগ্যাধি, কোম্বডাক, খয়রা, বামুনিয়া হাঁস, লাল গুড়গুটিসহ কত বাহারি নাম তাদের! কখনো তারা ভাসছে, কখনো ডুব দিচ্ছে কিংবা কখনো ঝাঁক বেঁধে ডানা মেলে দিচ্ছে আকাশে।প্রকৃতিপ্রেমিদের জন্য এ এক মনোরম দৃশ্য। ছোটবড় প্রায় ২২ টির মত লেক রয়েছে জাহাঙ্গীরনগরে। প্রায় সবকটিতেই পাখি আসে। সবচেয়ে বেশি দেখা যায় পরিবহন চত্বর ও রেজিস্টার সংলগ্ন লেকে। দর্শনার্থীদের ভিড়ও সবচেয়ে বেশি হয় এই লেকটিতেই।

পাখি আসতে শুরু করার সংবাদ পেলেই ক্যাম্পাসের বাইরে থেকে দর্শনার্থীরা পাখি দেখতে ভিড় করেন।শীত থেকে বাঁচতে হাজার মাইল পাড়ি দিয়ে আসা অতিথি পাখিদের বিরক্ত না করতে দর্শনার্থীদের প্রতি আহবান জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও শিক্ষার্থীরা।

নিউজ গার্ডিয়ান/এমএ/ জুঁই/