বৈশ্বিক উষ্ণতায় চরম ঝুঁকিতে বাংলাদেশ

বেলাল আহমেদ

হিমালয় অঞ্চলের হিমবাহগুলোর দুই-তৃতীয়াংশই ২১০০ সালের মধ্যে গলে যাবে। এটি একদল বিজ্ঞানীর সর্বশেষ সমীক্ষা। ২০১৮ সালের শেষপ্রান্তে সমীক্ষাটি শেষ হয়।

প্যারিস জলবায়ু চুক্তিতে বৈশ্বিক উষ্ণতা ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হলেও হিন্দুকুশ-হিমালয় অঞ্চলের সমগ্র হিমবাহের এক-তৃতীয়াংশ গলে যাবে।

অর্থাৎ সমগ্র হিন্দুকুশ হিমালয় অঞ্চলটি- যা আফগানিস্তান, পাকিস্তান, ভারত, নেপাল, চীন, মিয়ানমার পর্যন্ত ২০০০ মাইলব্যাপী (প্রায় ৩৫০০ কিলোমিটার) বিস্তৃত, তার ৩৬ শতাংশ বরফ ২১০০ সালের মধ্যে হারিয়ে যাবে।

হিন্দুকুশ-হিমালয় অঞ্চলটি হচ্ছে আমাদের পৃথিবীর ‘থার্ডপোল’, যেটিতে আর্কটিক ও এন্টার্কটিকা অঞ্চলটির পরই রয়েছে বরফের মজুদ। অর্থাৎ আর্কটিক ও এন্টার্কটিকা অঞ্চলের জমানো বরফের পর পৃথিবীর অন্য কোথাও এত বেশি বরফ মজুদ নেই।

এজন্যই এ অঞ্চলটিকে বলা হয় ‘থার্ডপোল’। পৃথিবীর আর্কটিক ও এন্টার্কটিকা অঞ্চলের জমানো বরফ থেকে যদিও থার্ডপোলে জমে থাকা বরফ বা হিমবাহ কম মনে হতে পারে; কিন্তু এটির ব্যাপকতা কিন্তু কম নয়- প্রায় ১ লাখ বর্গকিলোমিটার বিস্তৃত বরফ অঞ্চলের মধ্যে হিমবাহ রয়েছে প্রায় ৪৬০০০ কিলোমিটার এলাকায়।

হিন্দুকুশ-হিমালয় অঞ্চলটিতে রয়েছে পৃথিবীর সর্বোচ্চ পর্বতমালাসমষ্টি, যার মধ্যে এভারেস্ট, কে-২, চীনের তিয়েনসান পর্বতমালা অন্যতম। গোটা পৃথিবীর এক-তৃতীয়াংশ লোকের পানি সরবরাহের উৎস হচ্ছে এ হিন্দুকুশ-হিমালয় অঞ্চল এবং এর হিমবাহগুলো। কমপক্ষে ১৬৫ কোটি লোকের পানির উৎস এ অঞ্চলের হিমবাহগুলো। দুনিয়ার ১০টি প্রধান গুরুত্বপূর্ণ নদীর পানির উৎস হিন্দুকুশ-হিমালয় অঞ্চলের হিমবাহগুলো। গঙ্গা, সিন্ধু, ইয়েলো, মেকং, ইরাবতী, ব্রহ্মপুত্র নদীর প্রধান উৎস এ অঞ্চলটির হিমবাহগুলো।

পৃথিবীর দুটি গোলার্ধে অর্থাৎ উত্তর ও দক্ষিণ মেরু অঞ্চলের বিশ্ব জলবায়ু পরিবর্তনে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আছে এবং একই সময়ে বৈশ্বিক উষ্ণতায় অঞ্চলগুলো বেশ স্পর্শকাতর। কিন্তু উল্লেখিত থার্ডপোল অঞ্চলটি, যা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে অনেক উঁচুতে অবস্থিত, জলবায়ু পরিবর্তনে ও বৈশ্বিক উষ্ণতায় আরও বেশি স্পর্শকাতর হয়ে উঠছে। থার্ডপোল অঞ্চলটির বিস্তৃতি অনেক বেশি এবং প্রায় ১২ কোটি লোক সরাসরি থার্ডপোল অঞ্চলের পানি থেকে সেচ সুবিধা পেয়ে থাকে। কমপক্ষে ১৩০ কোটি লোক পরোক্ষভাবে তাদের পানির সরবরাহ পায়। নদী ও নদীর শাখা-প্রশাখা থেকে আফগানিস্তান, পাকিস্তান, ভুটান, মিয়ানমার, চীন, ভারত, নেপাল, বাংলাদেশ অর্থাৎ বিশ্ব জনসংখ্যার এক-চতুর্থাংশ মানুষ ‘থার্ডপোল’ অঞ্চলটির পানির ওপর নির্ভরশীল। অতি সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়ার এবিসি টেলিভিশনকে থার্ডপোল অঞ্চলটি সরেজমিন দেখে যাওয়ার আমন্ত্রণ জানানো হলে প্রথিতযশা বিজ্ঞানী প্রফেসর কিন জিয়াংয়ের নেতৃত্বে বিজ্ঞানীরা হিমালয় অঞ্চলের একটি দুর্গম এলাকা পরিদর্শনে যান। এলাকাটি থেকে বিগত ৫০ বছরব্যাপীই তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা হচ্ছিল। লক্ষ করা গেল, এলাকাটিতে যে হারে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে তা বিশ্ব তাপমাত্রা বৃদ্ধির দ্বিগুণ। মূলত ২০০৫ থেকে হিমবাহগুলো গলে যাওয়ার মাত্রা দ্বিগুণ হয়েছে। প্রায় ৫০০ হিমবাহ হারিয়ে গেছে এবং সবচেয়ে বড় হিমবাহটি দ্রুত গতিতে গলে যাচ্ছে। ভূ-পৃষ্ঠের উপরিতলের ২৪ শতাংশ স্থান হচ্ছে পার্বত্য অঞ্চল এবং পৃথিবীর মোট জনসংখ্যার ১২ শতাংশ মানুষ বাস করে এ পার্বত্য অঞ্চলগুলোতে। জলবায়ু পরিবর্তনে পার্বত্য অঞ্চলগুলো শুধু স্পর্শকাতরই নয়, এ অঞ্চলগুলোর বরফ চূড়াগুলো, হিমবাহগুলো শুধু গলেই যাচ্ছে না, হিমবাহগুলো স্থানান্তরিত হওয়ার প্রক্রিয়াও ত্বরান্বিত হচ্ছে।

বিজ্ঞানীদের সর্বশেষ সমীক্ষাটিতে দাবি করা হয়েছে, কার্বন নিঃসরণ থামানো না গেলে ২১০০ সালের মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশ হিমবাহ গলে যাবে। অঞ্চলটির গড় তাপমাত্রা শিল্পবিপ্লবের আগের তাপমাত্রা থেকে ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা ৯ ডিগ্রি ফারেনহাইট বেড়ে যাবে। এর ফলে প্রথমে শুরু হবে সর্বনাশা ভয়াবহ বন্যা এবং পরবর্তী সময়ে প্রধান নদীগুলোর পানির উৎস কমে যাবে।

২২টি দেশের বিজ্ঞানী, ১৮৫টি সংস্থা ও ৩৫০ গবেষক প্রতিবেদনটি তৈরি করেছেন এবং প্রায় সমসংখ্যক বিজ্ঞানী ও বিশেষজ্ঞ ব্যক্তি প্রতিবেদনটি পর্যালোচনা করার পর এটি প্রকাশ করা হয়েছে। ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ইন্টিগ্রেটেড মাউন্টেন ডেভেলপমেন্টের (ICIMOD) মি. ফিলিপ্পাস ওয়েস্টার সংবাদ সম্মেলন করে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেন।

নেপালে অবস্থিত ICIMOD প্রায় ৫ বছর গবেষণা করে ২১০ লেখক, ২০ সম্পাদক এবং ১২৫ বাইরের সমীক্ষক গবেষণাটিতে সংশ্লিষ্ট ছিলেন। বৈশ্বিক উষ্ণতায় মাত্র শতাব্দীর কম সময়ের মধ্যেই হিন্দুকুশ-হিমালয় অঞ্চলের ৮টি দেশের পাহাড় চূড়াগুলো হিমশীতল হিমবাহশূন্য হয়ে নিরেট পাথুরে চূড়ায় পরিণত হবে। আমাদের মনে রাখতে হবে, হিমালয়ের এ হিমবাহগুলো কিন্তু প্রায় ৭ কোটি বছর ধরে গঠিত হয়েছে এবং বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধিতে এগুলো গভীর স্পর্শকাতর হয়ে উঠেছে। ১৯৭০ সাল থেকে এগুলো ক্রমশ পাতলা হয়ে আসছে, স্থানান্তরিত হচ্ছে এবং আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাচ্ছে।

বৈশ্বিক উষ্ণতার ফলে ১৯৭০ সাল থেকে অঞ্চলগুলোর বরফ স্তর পাতলা হতে শুরু করে। তাপমাত্রা আরও ২-৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়ে যাওয়ার ব্যাপারটি নাটকীয় না শোনালেও পর্বত শ্রেণীর লাগোয়া প্রায় ২৪ কোটি লোকের জন্য ব্যাপারটি তীব্র সংকটের সৃষ্টি করেছে। দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করা অঞ্চলটির দৈনিক মাথাপিছু গড় আয় বাংলাদেশি টাকায় ১৬০ টাকার ঊর্ধ্বে নয়।

প্রতিবেদনটির মুখপাত্র মি. ওয়েস্টার বলেছেন, ‘এ হিন্দুকুশ-হিমালয় অঞ্চলটির বিপর্যয় এতদিন পৃথিবীবাসীর দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারেনি, যেমনটি হয়েছে নিুভূমির দ্বীপ রাষ্ট্রগুলো বা আর্কটিক অঞ্চলের বেলায়।’ যদিও এগুলোকেই বৈশ্বিক উষ্ণতায় অশনিসংকেত হিসেবে দেখা যাচ্ছে। ওয়েস্টারের মতামত হচ্ছে, হিন্দুকুশ-হিমালয় অঞ্চলের বরফ স্তরে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত সম্পর্কে এখনও বিশ্ব নিশ্চিত নয়। এরপরও বিষয়টির ব্যাপারে জরুরি ভিত্তিতে পদক্ষেপ নেয়ার সময় দ্রুত ফুরিয়ে যাচ্ছে। ২০৫০-এর মধ্যে কার্বন নিঃসরণ শূন্যমাত্রায় নামিয়ে শিল্পবিপ্লবের আগের অবস্থানে যেতে হলে প্যারিস জলবায়ু চুক্তি অনুযায়ী তাপমাত্রা ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে থামিয়ে না রাখার বিকল্প বিশ্ববাসীর হাতে আর নেই। এর মধ্যে ১৯৭০ থেকে এ পর্যন্ত হিন্দুকুশ-হিমালয় অঞ্চলটির হিমবাহগুলোর ১৫ শতাংশই হারিয়ে গেছে।

২০৫০ থেকে গলে যাওয়া হিমবাহগুলো সন্নিহিত নদীগুলোতে পানি বৃদ্ধি করবে। উঁচুতে থাকা জলাশয়গুলোর পাড় উপচে লাগোয়া ছোট ছোট বসতিগুলোর মানুষের বাসস্থানগুলো ধ্বংস হবে; আবার ২০৬০-এ নদীর পানিগুলো কমতে শুরু করবে। সিন্ধুনদসহ মধ্য এশিয়ায় পানির শূন্যতা দেখা দিতে থাকবে। অঞ্চলগুলোর নিম্নে পানি প্রবাহ কমে আসবে। জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলো বন্ধ হতে থাকবে। সেচের ওপর নির্ভরশীল পাকিস্তান, ভারত, নেপাল ও বাংলাদেশ পড়বে বিপাকে।

হিমবাহগুলো গলে গেলে কী হবে? প্রথমেই হিমবাহসংলগ্ন লেকগুলো ভরাট হবে এবং দেখা দেবে বন্যা; এমন শত শত লেকে ঘটবে ব্যাপারটি। স্যাটেলাইট ডাটার একটি তথ্য থেকে দেখা গেছে, মাত্র ১৯৯০ সাল থেকে ১২ বছর সময়ের মধ্যে এমন হিমবাহ জলাশয়ের সংখ্যা ৩৩৫০ থেকে ৪২৬০-এ বৃদ্ধি পেয়েছে। মূলত এ হিমবাহ জলাশয় বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে ক্রমাগত অস্থিতিশীল পাথরের পাহাড় ও বরফ মুখগুলোই হবে সমূহ বিপদের কারণ।

ICIMOD-র সমীক্ষাটিতে আন্তঃগঙ্গা সমতল অঞ্চলের বায়ুদূষণের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। উল্লেখিত অঞ্চলটি পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি বায়ুদূষিত অঞ্চল। মৌসুমি বায়ুর ঘূর্ণনে অঞ্চলের দূষিত বায়ু, জমানো কার্বন ডাই অক্সাইড ও ধূলিকণা হিমবাহগুলোতে আঘাত হেনে হিমালয়-হিন্দুকুশ অঞ্চলটির হিমবাহগুলো গলিয়ে দিতে যথেষ্ট ভূমিকা রাখছে।

গলে যেতে থাকা হিমবাহগুলো সন্নিহিত নদীগুলোতে ২০৫০ সাল নাগাদ পানিতে সয়লাব হয়ে যাবে এবং দেখা দেবে প্রচণ্ড বন্যা। যেগুলো আবার ২০৬০ সালের পর থেকে শুকিয়ে যাবে এবং অঞ্চলগুলোতে দেখা দিতে শুরু করবে তীব্র পানি সংকট।

হিন্দুকুশ-হিমালয় অঞ্চলটি হচ্ছে একটি জটিল, গতিশীল, প্রচণ্ড ঝুঁকিপূর্ণ হটস্পট। ভূমিকম্প, আকস্মিক বন্যা, ভূমিধস, খরা, বনভূমিতে আগুন লাগা অঞ্চলটির নিয়মিত ঘটনা। আর্থ-সামাজিক চরিত্র, জলবায়ু পরিবর্তন, জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও আর্থিক চাহিদা- সব মিলে এ হিন্দুকুশ-হিমালয় অঞ্চলটিকে করে তুলেছে প্রচণ্ড ঝুঁকিপূর্ণ।

বিশ্ব তাপমাত্রা ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধির মানে হচ্ছে হিন্দুকুশ-হিমালয়ান অঞ্চলের উষ্ণতা ২.১ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধি। এর মধ্যে কার্বন নিঃসরণ যদি কমিয়ে রাখা না যায়, তবে থার্ডপোল অঞ্চলসহ পৃথিবীজুড়ে দেখা দেবে চরম সংকট। পৃথিবীর পানির ছাদ নামে পরিচিত অঞ্চলটির তাপমাত্রা ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বেড়ে যাবে এবং অঞ্চলটিতে মানুষসহ প্রাণ টিকে থাকা অসম্ভব হয়ে দাঁড়াবে।

অন্যদিকে অঞ্চলটিতে রয়েছে রাজনৈতিক সংকট- ভারতের সঙ্গে চীনের, ভারতের সঙ্গে পাকিস্তানের সীমান্ত সংকট ও ইনডাস পানি চুক্তি সংকট, চীনের সঙ্গে ভারতের অরুণাচল সীমান্ত সংকট, চীনের অনেক জলবিদ্যুৎ প্রকল্প নিয়ে ভারতের আপত্তি, ব্রহ্মপুত্র নদ থেকে চীনের পানি সরিয়ে নেয়ার পরিকল্পনা, এক হাজার কিলোমিটার পানির পাইপলাইন স্থাপন করে চীনের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের পতিত ভূমি জিনজিয়াংয়ের টাকলিমাকান মরুভূমিকে উর্বর অঞ্চলে পরিণত করার চীনা পরিকল্পনা।

অন্যদিকে পাকিস্তানের সঙ্গে ভারত ইনডাস ওয়াটার ট্রিটি লঙ্ঘন করে কাশ্মীর অঞ্চলে একের পর এক ড্যাম নির্মাণ নিয়ে রয়েছে পাকিস্তানের আপত্তি। ২০১৬ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর উরিতে কাশ্মীরি তরুণদের হামলায় ১৮ ভারতীয় সেনা নিহত হলে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী পানি চুক্তি থেকে সরে আসার হুমকি দেন। কাশ্মীর সীমান্তে ভারত কৃষাণ-গঙ্গা জলবিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপন করায় ইতিমধ্যেই পাকিস্তানে তীব্র পানি সংকট দেখা দিয়েছে। ভারত এখন কিস্তোয়ার জেলার চেনাবের একটি শাখা নদীতে আরও তিনগুণ বড় আরেকটি ড্যাম প্রকল্প স্থাপন করার কাজ দ্রুতই শেষ করছে। কৃষাণ-গঙ্গা জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ছাড়াও ভারত আরও ৩৩টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের কাজ হাতে নিয়েছে এবং এগুলো শেষ হলে পাকিস্তানে দেখা দেবে তীব্র পানি সংকট।

আরেক দিকে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের তিস্তা নদীর পানি ভাগাভাগি, ফারাক্কা সংকট ও অনেক অভিন্ন নদীর পানি নিয়ে সংকট বেশ ঘনীভূত হচ্ছে। তিস্তার উজানে ভারত গজলডোবা ছাড়াও ২৭টি ড্যাম ও ব্যারাজ নির্মাণ করেছে। ফলে শুষ্ক মৌসুমে বাংলাদেশে তীব্র পানি সংকট দেখা দিয়েছে। এছাড়া ভারতের আন্তঃনদী সংযোগ প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে বাংলাদেশ পড়ছে চরম পানি সংকটে।

জলবায়ু পরিবর্তনে হিন্দুকুশ-হিমালয়ের হিমবাহগুলো গলে যাওয়ার পাশাপাশি অঞ্চলটির রাজনৈতিক সংকট ও সম্ভাব্য যুদ্ধ ভাটির দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে মহাসংকটে ফেলে দিতে পারে।

বেলাল আহমেদ : গবেষক

এমএ/ ০৬:০০/ ২২ মার্চ