বৃষ্টি উপেক্ষা করে ববি শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধ

ওবায়দুর রহমান, ববি প্রতিনিধি

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) উপাচার্যের পদত্যাগ পত্র বা বাধ্যতামূলক ছুটির লিখিত প্রতিশ্রুতির দাবিতে সোমবার (৮ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৯টা থেকে টানা ১৪ তম দিনের মত আন্দোলন করেছে শিক্ষার্থীরা। এদিন সকাল সাড়ে ৯টা থেকে শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ভবনের নিচেয় অবস্থান নেয়। পরবর্তীতে বেলা ১১টা তারা উপাচার্য পদত্যাগ চাই সম্বলিত একটি ব্যানার নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে ঢাকা-পটুয়াখালি মহাসড়কে রাস্তা অবরোধ করে শিক্ষার্থীরা । এসময় তারা উপাচার্য প্রফেসর ড. এস এম ইমামুল হকের অপসারণ চেয়ে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন।

পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী বেলা ১১ টা থেকে ১ টা পর্যন্ত সড়ক অবোরধ কর্মসূচি পালন করে শিক্ষার্থীরা। বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে প্রবল আকারে বৃষ্টি নামলেও বৃষ্টির বাধা উপেক্ষা করে আন্দোলন করেছে শিক্ষার্থীরা। এ সময় শিক্ষার্থীদের ছাতা ও পলিথিন মাথায় দিয়ে আন্দোলন করতে দেখা যায়।

সড়ক অবোরধের কারণে ঢাকা-পটুয়াখালি মহাসড়কে তীব্র যানযটের সৃষ্টি হয়। রাস্তার দুই পাশে প্রচুর যানবাহন দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। যার ফলে জনদূর্ভোগ ও ভোগান্তিতে পড়ে সাধারণ মানুষ। তবে এ্যাম্বুলেন্স সহ কিছু জুরুরী কাজে ব্যবহৃত গাড়ি চলতে দেখা যায়।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি শফিকুল ইসলাম বলেন,উপাচার্যের পদত্যাগ পত্র বা বাধ্যতামূলক ছুটির লিখিত কপির জন্য ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছি আমরা। ভিসির পদত্যাগ বা ছুটিতে যাওয়ার বিষয়টি লিখিত আকারে না পাওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবো । তিনি বলেন, ১৪ দিন ধরে ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন করেই এ আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছি আমরা। এই ২৪ ঘণ্টার মধ্যে উপাচার্যের পদত্যাগ পত্র বা বাধ্যতামূলক ছুটির লিখিত কপি নোটিশ আকারে না পেলে আরও কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবো বলে জানান তিনি।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের আরেক প্রতিনিধি লোকমান হোসাইন বলেন, শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির মাধ্যমে আমরা বিগত ১৩টি দিন আন্দোলন করেছি। কিন্তু দুঃখের বিষয় যথাযথ কতৃপক্ষ ভিসির বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয় নি, যার কারণে আমরা সড়ক অবোরধের মত কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হয়েছি । তিনি আরও বলেন, উপাচার্যের পদত্যাগ পত্র বা বাধ্যতামূলক ছুটির লিখিত কপির জন্য যে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছি, তার মধ্যে লিখিত কপি নোটিশ আকারে না পেলে আরও কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবো।

উল্লেখ্য, ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ক্যাম্পাসে বৈকালিন চা চক্র ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। সেখানে শিক্ষার্থীদের আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। শিক্ষার্থীরা এই অনুষ্ঠানের প্রতিবাদ জানালে, এ ঘটনায় ভিসি ক্ষুব্ধ হয়ে শিার্থীদের রাজাকারের বাচ্চা বলেন । এর প্রতিবাদে এবং ভিসির পদত্যাগের দাবিতে ক্লাশ-পরীক্ষা বর্জন করে আন্দোলন করছে শিক্ষার্থীরা।

নিউজ গার্ডিয়ান/ ওর/ এমএ/