সার্ক ট্যুরে জাবির ১১ জন

সার্ক ট্যুরে ভারত গিয়েছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পাবলিক হেলথ এন্ড ইনফরমেটিক্স বিভাগের ৪২তম ব্যাচের ১১ জন শিক্ষার্থী। তারা ঘুরে এসে জানালেন তাদের অভিজ্ঞতার কথা।

গত ১০ মার্চ রাত ১১ টা। বিশ্ববিদ্যালয় গেইট এ বাস এর জন্য অপেক্ষামান আমরা ১১ জন। গন্তব্য ভারতের বিভিন্ন স্থান ভ্রমন। বৃষ্টি দিয়ে শুরু হল আমদের আকাঙ্ক্ষিত যাত্রা। ৮ ঘণ্টা পর যখন বর্ডার পাড় করে উপস্থিত হলাম ভারতের হরিদাসপুর ষ্টেশনে। তখনি পরিচয় পেলাম সম্পূর্ন নতুন মানুষের নতুন ভাষার সাথে। আমদের মধ্য থেকে কিছু শিক্ষার্থীর ভিন্ন ভাষা বলার অভিজ্ঞতা ও ভোলার মতো নয়। এবার ষোল ঘণ্টা ট্রেনে সফর করে উপস্থিত হলাম দিল্লি। অবাক দৃষ্টি তে দেখছিলাম ভিন্ন পোশাক পরিহিত আমাদের ই মত ঘুরতে আসা মানুষদের। সেই সাথে সব নির্মাণশৈলী গুলো। এমনই অভিব্যক্তি প্রকাশ করলেন এই সফরেরেই একজন নুসরাত সিবা।

আরেক শিক্ষার্থী সুমাইয়া ইসলাম বলছিলেন, একটা অপরিচিত দেশে অপরিচিত পরিবেশে তাদের ভাষা সংস্কৃতি খাবার এর সাথে মানিয়ে একটা টিম হিসেবে ১৪ টা দিন পার করাটা চ্যালেঞ্জিং বটে। যেখানে সবাইকে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে হয়েছে প্রতিটি মূহুর্তে সব বিষয়ে।এখনো মনে পরে শবনম ম্যাম কতটা অসুস্থতার মাঝেও দ্বায়িত্ব কাধে নিয়ে রওনা দিয়েছিলেন। সাথে ছিলেন জনি স্যার যিনি আমাদের এগারজন এর সার্বক্ষণিক খেয়াল রেখেছিলেন। আর বিদায় জানাতে এসে তাজউদ্দীন স্যার কত সুন্দর করে দেশ, বিশ্ববিদ্যালয়, বিভাগ এবং শ্রদ্ধেয় স্যার দের মান রাখার কথা বলেছিলেন। আমরা চেষ্টা করেছি তাদের কথার মান রাখার এবং আল্লাহর অশেষ রহমতে সুন্দর ভাবে ট্যুর টি শেষ করতে পেরেছি।

আরেক শিক্ষার্থী রাজন বনিক বলছিলেন, ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আমরা যখন কলকাতাগামী বাসে চড়লাম, তখন বেলা সাড়ে দশটা। ভ্যাপসা গরমে যাত্রা শুরু করলাম, গন্তব্য মারকুইস স্ট্রীট। নতুন দেশ, নতুন পরিবেশ, চারপাশ দেখছিলাম আর মিল অমিল খুজতে শুরু করে দিলাম। সেদিন দিল্লীগামী ট্রেন আমাদের প্রথম স্লিপিং কোচ ট্রেন জার্নি যা আমাদের সম্পূর্ণ আলাদা অভিজ্ঞতা যুক্ত করেছিল। এ দিল্লি পৌছানোর পর চারদিকের মানুষজনের ভিন্ন ভাষা ছিল আমাদের প্রথম চমক, সেখানে আমরা ইন্ডিয়াগেট, ইন্দিরা গান্ধী মিউজিয়াম, কুতুবমিনার, লোটাস টেম্পল, রেড ফোর্ট দেখেছিলাম। দিল্লির খাওয়া দাওয়া ও ছিল একটু অন্যরকম, তবে ঐতিহাসিক তাৎপর্যপূর্ণ দিল্লি আসলেই চমৎকার। আর অবশ্যই আমাদের থোরা থোরা হিন্দীতে লোক হাসানো কথা মনে থাকার মতো। ১৩ তারিখ জয়পুরে পৌছে আমীর ফোর্ট, জয়গড় ফোর্ট, জলমহল, হাওয়ামহল, জন্তর-মন্তর ঘুরে দেখেছিলাম। অসাধারণ মনোমুগ্ধকর এই গোলাপী শহরে বার বার ফিরে যেতে চাই। জয়পুর থেকে আমরা সরাসরি আগ্রা পৌছলাম। তাজমহলের শ্বেতপাথরের নিখুঁত কারুকাজ ও বিশালতা এবং পাশে বহমান যমুনা নদীর ঠান্ডা বাতাস আমাদের বিমোহিত করেছিল। পরদিন সকালে আমরা আগ্রা ফোর্ট, সম্রাট আকবরের ফতেহপুর ও শিকিরি দেখলাম। স্থাপত্য ও ঐতিহাসিক দিক থেকে আগ্রা অতুলনী

আনিকা বুশরা বঁইচি বলছিলেন, ‘১৬ মার্চ ২০১৯ আমরা ভারত এর সিমলার উদ্দেশ্য রওনা হয়েছিলাম। যাওয়ার সময় দৃষ্টিগোচর হল গাছে ঢাকা সবুজ পাহার আর সংলগ্ন বারি গুলো যেন পাহারের রাস্তার সাথে মিশে আছে। পাহারের কোল ঘেষে আঁকাবাঁকা সুউচ্চ সিড়ি বেয়ে মল রোড এ যাওয়া আর ঘোড়ায় করে “কুফ্রি ভ্যালি” তে যাওয়ার অভিজ্ঞতা সত্যিই ভোলার নয়। ১৮ মার্চ আমরা মানালীর পথে যাত্রা করেছিলাম। পাহাড়ি আঁকাবাঁকা রাস্তার ঘূর্ণিপাক, চোখ বন্ধ করলেই যেন রোলার কোস্টার চরার অনুভূতি মনে করিয়ে দেয়। সেখানে অত্যন্ত নিম্ন তাপমাত্রার সংস্পর্শে সোলাং ভ্যালির বরফ আচ্ছাদিত দৃশ্য সত্যিই অতুলনীয়। সবাই একসাথে আড্ডা দেয়া, ভিনদেশি মানুষের কথা ও গান শুনা এবং রাতে সবাই ক্লান্ত শরীরে হুড়মুড় করে যে যার বিছানায় শুয়ে পড়া এই অনুভূতি গুলো শুধু আমাদেরই।

রুবাইয়া জতি বলছিলেন, বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে প্রতিটি শিক্ষার্থীই বোধ হয় এই স্বপ্নটা দেখে। সেই স্বপ্নটা সত্যি হওয়ার চেয়ে আনন্দের আর কি হতে পারে? তাই আমরা পাবলিক হেলথ এন্ড ইনফরমেটিক্স বিভাগের ৪২ আমাদের শ্রদ্ধেয় শিক্ষক মণ্ডলী, এই ট্যুরের সার্বিক দায়িত্বে থাকা শবনম নাহার ম্যাডাম এবং মাহমুদুর রহমান জনি স্যার এর কাছে কৃতজ্ঞ। তাদের নিরলস প্রচেষ্টাই এই ট্যুরের সফলতা এবং স্বার্থকতা । একই সাথে বিভাগের প্রথম সার্ক ট্যুরে অংশগ্রহণকারী ব্যাচ হিসেবে আমরা গর্বিত বলছিলেন ৪২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ।

নিউজ গার্ডিয়ান/ এমএ/