বাংলাদেশ-শ্রীলংকা ম্যাচ পরিত্যক্ত

Umpires Richard Kettleborough, Richard Illingworth and Michael Gough inspect the pitch after rain delayed the start of the 2019 Cricket World Cup group stage match between Bangladesh and Sri Lanka at Bristol County Ground in Bristol, southwest England, on June 11, 2019. (Photo by GEOFF CADDICK / AFP) / RESTRICTED TO EDITORIAL USE

আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেখে যে শঙ্কা জেগেছিল, সেটাই সত্যি হলো। বৃষ্টিতে ভেসে গেল বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার লড়াই। ব্রিস্টলে বিশ্বকাপের এই ম্যাচে টসই হতে পারেনি।

জয়ের জন্য উন্মুখ হয়ে ছিল বাংলাদেশ। তাদের আশায় জল ঢেলে দিল বৃষ্টি। পরিত্যক্ত হয়ে গেল ম্যাচ। ১ পয়েন্ট করে ভাগ করে নিল দুই দল। ব্রিস্টলে এ নিয়ে টানা দুই ম্যাচ বৃষ্টিতে ভেস্তে গেল। এর আগে গত শুক্রবার এই মাঠেই শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তানের ম্যাচেও টস সম্ভব হয়নি।

এবারের আসরে এখন পর্যন্ত সব মিলিয়ে তিন ম্যাচ পরিত্যক্ত হলো বৃষ্টির বাধায়। গত সোমবার সাউথ্যাম্পটনে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও দক্ষিণ আফ্রিকার ম্যাচে খেলা হয় মোটে ৭ ওভার ৩ বল।

ম্যাচটি হওয়া নিয়ে দর্শকদের মধ্যে আগেই শঙ্কা দেখা দিয়েছিল। কেউ কেউ হতাশ হয়ে মাঠ ছেড়ে বাড়ির পথ ধরেছেন।

বাংলাদেশ সময় ৫টা ১৫ মিনিটে আম্পায়ারদের মাঠ পরিদর্শনে যাওয়ার কথা ছিল। এরপর খেলার ভবিষ্যৎ নিয়ে তাদের সিদ্ধান্ত জানানোর কথা। কিন্তু বৃষ্টি হওয়ায় তারা মাঠ পরিদর্শন স্থগিত রেখেছেন।

এর আগেও একবার বৃষ্টি ফিরে আসায় মাঠ পরিদর্শন স্থগিত করেছিলেন আম্পায়াররা। যদিও ঘণ্টা দুয়েক আগে খেলা শুরু হওয়ার কথা ছিল।

ব্রিস্টলের আবহাওয়া বুলেটিনে সোমবারই জানানো হয়েছিল, মঙ্গলবার সারাদিন বৃষ্টি হতে পারে। আবহাওয়ার পূর্বাভাস সত্যি হলো।

বেরসিক বৃষ্টি হানা দিল বাংলাদেশ বনাম শ্রীলংকা ম্যাচে। ব্রিস্টলের কাউন্টি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে বৃষ্টির কারণে এখনও টস করতে পারেননি দুদলের অধিনায়ক।

বৃষ্টির সঙ্গে বয়ে যাচ্ছে ঠাণ্ডা বাতাস। এখনও কভারে ঢাকা পিচ ও আশপাশের আউটফিল্ড।

গতকাল পড়ন্ত বিকাল থেকেই শুরু হয় বৃষ্টি। তার পর আর মেলেনি সূর্যের দেখা, ঝিরঝিরে বৃষ্টি আর কনকনে বাতাসের সঙ্গে মেঘে ঢাকা আকাশ- ঠিক এ অবস্থায়ই পার হয়েছে রাত।

মঙ্গলবার ভোরেও ব্রিস্টলের আকাশে দেখা যায়নি সূর্যের উপস্থিতি। যেখানে ভোর সাড়ে ৪টা থেকে ৫টার মধ্যেই সূর্য উঠে যায়, সেখানে সকাল ৭টা পর্যন্তও আকাশ ছিল মেঘে ঢাকা।

সকালে শুরু হয়েছে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি দিয়ে। আবহাওয়ার বুলেটিনে বলা হয়েছে, এ বৃষ্টি বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে পারে। এমতাবস্থায় ম্যাচ নিয়ে দেখা দিয়েছে শঙ্কা।

সারাদিন যদি বৃষ্টি হয়, তা হলে পয়েন্ট ভাগাভাগিকে সান্ত্বনা পুরস্কার হিসেবে মেনে নিতে হবে মাশরাফিদের। কিন্তু সেটি হবে টাইগারদের জন্য ম্যাচ হারার মতোই ব্যাপার। কারণ তিন ম্যাচে দুই পয়েন্ট নিয়ে বাংলাদেশের জন্য আজকের ম্যাচে জয়ের বিকল্প নেই।

আবহাওয়া নিয়ে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে অধিনায়ক মাশরাফির কপালেও। সোমবার ম্যাচপূর্ববর্তী সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, প্রথম তিন ম্যাচের একটি ভেসে গেলে অত সমস্যা হতো না। তবে এ ম্যাচটা পণ্ড হলে বড় ক্ষতি হয়ে যাবে বাংলাদেশের। আশা করছি, আবহওয়া পূর্বাভাস যাই বলুক-ম্যাচটা যেন হয়।

শ্রীলংকার বিপক্ষে সবশেষ তিন দেখায় জিতেছে বাংলাদেশ। নিদাহাস ট্রফিতে দুই ম্যাচে এবং এশিয়া কাপে লংকানদের হারিয়েছেন টাইগাররা। তবে বিশ্বকাপে তিনবারের দেখায় একবারও জয় পাননি তারা। এ ম্যাচে জিততে হলে তাই রেকর্ড ব্রেক করতে হবে। এ ক্ষেত্রে সিনিয়র-জুনিয়রদের সম্মিলিত দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের বিকল্প নেই।

সোমবারও সাউদাম্পটনে ৪৫ বল গড়ানোর পর বেরসিক বৃষ্টি হানা দেয়। তাতে দক্ষিণ আফ্রিকা ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের ম্যাচটি পরিত্যক্ত হয়। এর আগে বৃষ্টির কারণে পরিত্যক্ত হয় শ্রীলংকা-পাকিস্তান ম্যাচটিও।

তবে কয়েকটি ম্যাচে বৃষ্টির বাগড়া উপেক্ষা করে ব্যাট-বলের লড়াই উপভোগ করেছেন ক্রিকেটপ্রেমীরা। আজকেও বাংলাদেশের দর্শকরা এমন একটি লড়াইয়ের প্রতীক্ষার প্রহর গুনছেন।

নিউজ গার্ডিয়ান/ এমএ/