যে ৫ কারণে সেমিফাইনালে খেলবে বাংলাদেশ

ক্রিকেটবোদ্ধা থেকে শুরু করে টাইগারভক্তরাও মনে করছে, ভারতের বিপক্ষে ম্যাচটিই হবে বাংলাদেশের আসল পরীক্ষা। ভারতকে হারিয়ে দিতে পারলে বাংলাদেশের সেমিফাইনাল কে ঠেকায়? তখন পাকিস্তান উজ্জীবিত টাইগারদের সামনে হয়তো পাত্তাই পাবে না। বিপরীতে সেমিফাইনালে ভারত পাকিস্তানের মুখোমুখি হতে চায় না- এজন্য ইচ্ছে করেই কোহলিরা বাংলাদেশকে জিতিয়ে দেবে এমন গুঞ্জনও আসছে পাক সমর্থকদের কাছ থেকে। তবে সবকিছুকে ছাপিয়ে কথার যুদ্ধে জড়াতে নারাজ বাংলাদেশ। বরং নিজেদের সবটুকু উজাড় করে দিয়ে দুটি ম্যাচেই জয় পেতে মরিয়া সাকিব-মুশফিকরা।

সামনে ভারত ও পাকিস্তান বড় দুই বাধা অতিক্রম করে বাংলাদেশ সেমিফাইনাল খেলবে এমন বিশ্বাস রয়েছে টাইগারভক্তদের। ক্রিকেট বিশ্লেষকদেরও কেউ কেউ মনে করছেন, এবার বাংলাদেশ বিশ্বকাপে নিজেদের সত্যিকারের চমকটা দেখাবে। বাংলাদেশ কেন কী কারণে কীভাবে সেমিফাইনাল খেলবে এ নিয়ে কিছু যুক্তিও দাঁড় করানো হয়েছে ইতোমধ্যে। যেখানে প্রধানত পাঁচটি কারণে বাংলাদেশকে সেমিফাইনালে দেখছে অনেকেই।

১. ধাওয়ানের না থাকা: বোলিংয়ে যথেষ্ট বৈচিত্র্য আছে নিঃসন্দেহে। তবে ভারতের ব্যাটিং লাইন আপের মূল স্তম্ভ যদি হন বিরাট কোহলি সেখানে শিকড় বলা যেতে পারে শেখর ধাওয়ানকে। কিন্তু সেই ধাওয়ানের ইনজুরির পর আফগানিস্তান কিংবা উইন্ডিজের বিপক্ষে ম্যাচগুলোতে কিন্তু ব্যাটিং নিয়ে বেশ ভুগতে হয়েছে রোহিত শর্মা-ধোনিদের। বাংলাদেশ এই সুযোগটা কাজে লাগিয়ে চাইবে ভারত বধ নিশ্চিত করতে।

২. ফর্মে সাকিব-মুশফিক: বছরের পর বছর ধরে বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের মূল কাণ্ডারি হয়ে উঠেছেন তামিম-মুশফিক-সাকিব-মাহমুদউল্লাহ রিয়াদরা। তামিম ধীরে ধীরে নিজেকে ফিরে পাচ্ছেন। তবে ব্যাটে-বলে ক্যারিয়ারের সেরা সময়ে আছেন সাকিব। এরই মধ্যে বিশ্বকাপে নিজের করে নিয়েছেন একাধিক রেকর্ড। এই মঞ্চে ১০০০ রানের পাশাপাশি সর্বোচ্চ ৩০ উইকেট এখন কেবল সাকিবের। এই আসরে তিনবার ম্যাচসেরা হয়ে ছুঁয়েছেন সাবেক ভারতীয় ক্রিকেটার যুবরাজ সিংকে। মুশফিকও দক্ষিণ আফ্রিকা, অস্ট্রেলিয়া ও আফগানিস্তানের বিপক্ষে দুর্দান্ত ব্যাট করেছেন। ইনজুরি কাটিয়ে ফিরতে পারলে ফিনিসারের ভূমিকাটা বুঝেশুনেই পালন করবেন রিয়াদ।

৩. রান তাড়ার মানসিকতা: এর আগে বাংলাদেশ এক আসরে ৩০০ এর বেশি রান করেছে কমই। অথচ এবার গত ৬টি ম্যাচের তিনটিতেই ৩০০ প্লাস রান করেছে। বিশেষত উইন্ডিজের বিপক্ষে ৩০০ রান তাড়া ছিল বেশ দাপুটে। অস্ট্রেলিয়াকে হারাতে না পারলেও বড় রান তাড়া করতে নেমে ভেঙে পড়েনি বাংলাদেশ। অজি বোলারদের সামনে করেছিল ৩৩৩ রান। মুশফিক পেয়েছিলেন সেঞ্চুরি।

৪. রেকর্ড: ভারতের বিপক্ষে গত কয়েক বছর হাতের নাগাল দিয়ে ছুঁয়ে ছুঁয়ে হাত ফসকে গেছে জয়। সবশেষ এশিয়া কাপের ফাইনালেও জেতা ম্যাচ হেরেছে বাংলাদেশ। তবে এই ক’বছরে পাকিস্তানের বিপক্ষে রেকর্ডটা কিন্তু দুর্দান্ত। ওয়ানডে কিংবা টি-২০ সব ফরমেটেই পাকিস্তাদের নাস্তানাবুদ করেছে টিম টাইগারস। ফলে বাংলাদেশ জানে, ভারতকে বিট করতে পারলে পাকিস্তানকে হারিয়ে কীভাবে উঠে যেতে হবে সেমিফাইনালে। আর পাকিস্তানের সঠিক নেতৃত্বহীনতাও বাংলাদেশকে ভালো সুযোগ করে দেবে। অথচ যেখানে কিনা সঠিক নেতৃত্বই বিশ্বকাপে ভারতের বড় শক্তি।

৫. তারুণ্য ও অভিজ্ঞতা: বাংলাদেশ এবার অভিজ্ঞতা আর তারুণ্যের মিশেলে এমন এক দল নিয়ে বিশ্বকাপে গেছে যে দলটির ওপর আস্থা রাখা যায়। যেটুকু ফাঁকফোকর তা কিছুটা বোলিংয়ে। আর মোস্তাফিজ, সাইফুদ্দিনরা যদি সেই ছিদ্রগুলোকে ঢেকে রেখে প্রতিপক্ষের ব্যাটসম্যানদের চাপে রাখতে পারে তবে দিনটা হতে পারে নিজেদের। বিশ্বকাপে স্বপ্নের সেমিফাইনালে যেতে হারাতে হবে ভারত আর পাকিস্তানকে।

চ্যালেঞ্জের এই পাহাড় ডিঙাতে দলের সিনিয়রদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করার শক্তি ও মানসিকতা রয়েছে জুনিয়রদেরও। মাশরাফির নেতৃত্ব, সাকিবের অলরাউন্ড পারফরম্যান্স, তামিম-মুশফিক-রিয়াদদের দায়িত্বশীল ভূমিকা আর সৌম্য, লিটন, মোসাদ্দেক, মিরাজদের একসঙ্গে জ্বলে উঠা ভস্ম করে দিতে পারে যেকোনও প্রতিপক্ষকে।

নিউজ গার্ডিয়ান/ এমএ/