কোথাও কেউ নেই, চারদিকে শুধু উৎকন্ঠা-আতংক

জাহিদুল হক

অস্থির সময় যাচ্ছে বাতাসে শুধু দুঃসংবাদের ছড়াছড়ি চারদিকে শুধু লাশের মিছিল। বন্যা,গুজব,ডেঙ্গু, সাম্প্রদায়িক বিষ বাষ্প, শেয়ার বাজার দূর্নীতি সব কিছু মিলে জন জীবন বির্পযস্ত। আতংক, উৎকন্ঠায় কাটছে সবার জীবন ।

একবিংশ শতাব্দী মৃত্যুকে করেছে সহজ, বেঁচে থাকাকে করেছে কষ্ট সাধ্য। গত কয়েক দিনে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের দুজন শিক্ষার্থী মৃত্যু গুজবের কারনে নিহত হওয়া ভদ্র মহিলা রেণুর ছোট্ট মেয়ে তোবার কান্না যেমন দেশের সবাইকে বেদনাহত করেছে তেমনি আমাকেও গভীর ভাবে আহত করেছে।মাঝেমাঝে নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে হয়  এতকিছুর পর বেঁচে আছি তো। মহান আল্লাহ কাছে শুকরিয়া জ্ঞাপন করি বাঁচিয়ে রাখার জন্য। কত স্বপ্ন,আশা নিয়ে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে এসেছিল অথচ অকালেই ঝরে গেলে দুটি প্রান। তাদের স্বপ্নের সাথে জড়িত তাদের পরিবার ও।ফিরোজের গরীব কৃষক বাবা আর জাবির মেয়েটার পাহাড়ে সংগ্রামী পরিবারকে রাষ্ট্র কি স্বান্তনা দিবে। যার গেছে হায় সেই বুঝে কতটা বেদনা।প্রশাসনের লোকজন বেশিরভাগ সময় ব্যস্ত থাকে তোষামোদে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় এখনও ডেঙ্গু প্রতিরোধে এখনও কোন দৃশ্যমান ব্যবস্থা দেখি নাই। হাজার হাজার ছেলে মেয়ের মধ্যে ১/২ মৃত্যু বোধহয় তাদের কাছে কিছুই না। তবে যার সন্তান হারায় সে বুঝে কতটা ব্যাথা! পরিবার গুলো কতটা অসহায় হয় তা যার হয়েছে সে ছাড়া কেউ বুঝবে না।

গুজব নামক নতুন আতংকে প্রান দিতে হয়েছে নিরপরাধ অনেক মানুষের। এখন পর্যন্ত প্রায় ১০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে ছেলেধরা সন্দেহে গণপিটুনিতে আবার অনেকেই হয়েছেন আহত। চার বছরের মেয়েকে স্কুলে নিয়ে যাওয়ার পথে গুজবের শিকারে হয় প্রানদিতে হয়েছে রেনু নামক ভদ্রমহিলার। হৃদয়বিদারক দৃশ্য কিভাবে অতি উৎসাহী মানুষ একজন মানুষকে মারতে মারতে মেরেই ফেললো। চার বছরের মেয়েকে কী দিয়ে সান্ত্বনা দিবেন। মহান সৃষ্টিকর্তা ছাড়া পরিবারের সবাইকে ধৈর্য ধরার শক্তি দান করুক। পদ্মা সেতুতে মাথা লাগবে এই কথা বলে গুজব সারা দেশেই ছেলে ধরা নিয়ে আতংক। সরকার ও জনগণ সতর্কতার সহিত এই সমস্যা মোকাবেলা করতে। এই বিষয় নিয়ে দীর্ঘমেয়াদী সমাধান করা। ডিজিটাল মিডিয়ার যুগে দ্রুত তথ্য বিস্তার লাভ করে। অবাধ তথ্য প্রবাহ নিশ্চিত করা, সুষ্ঠু ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রচার গুজব প্রতিরোধ মূখ্য ভূমিকা পালন করবে।

ঢাকা শহরে এখন আতংকের নাম ডেঙ্গু ৷ মহামারী আকার ধারন করেছে। ফেইসবুক আসলেই দেখা যায় রক্ত চাওয়ার পোস্ট৷ ঢাকা শহরের হাসপাতাল গুলো রোগীর জায়গা হচ্ছে না৷ চারদিকে শোকের ছায়া। ভয় আর উৎকন্ঠা। যুগান্তরের খবর অনুযায়ী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হল গুলোতে ১০০ জনের বেশি শিক্ষার্থী ডেঙ্গু তে আক্রান্ত৷ এবারের ডেঙ্গু খুবই ভয়ংকর। এখন পর্যন্ত ডাক্তার সহ ১০/১২ জনের মৃত্য হয়েছে।ঢাকার হাসপাতাল গুলোতে ডেঙ্গু রোগীর ভিড় জায়গ হচ্ছে রোগীদের। আবর্জনার স্তুপের উপর দাড়িয়ে আছে ঢাকা শহর। চারদিকে শুধু ময়লা আর আবর্জনা। বর্জ্য নিষ্কাশনের নেই কোন কার্যকরী ব্যবস্থা। রাস্তার দুপাশে ফেলা হয় ময়লা আবর্জনা। ময়লা আর নোংরা জায়গা মশাদের জন্মের স্থান। এখন মহামারী আকার ধারন করেছে।

ঢাকার মেয়ররা কার্যত ব্যার্থ, চরম অদক্ষতায় পরিচয় দিয়েছে।দায়িত্ব শীল ব্যাক্তিরা কান্ডজ্ঞানহীন বক্তব্য দিয়েছেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বক্তব্য তো রীতিমতো বর্নবাদের শামিল।

যা অপ্রত্যাশিত ও বাতুলতা ছাড়া আর কিছু না। তারা কি স্বজন হারানোর বেদনা বুঝেন না। স্বজন হারানোর মর্মস্পর্শী কান্না কি তাদের হৃদয়ে আঘাত করে না।করবে কেমন করে তারা ব্যস্ত সময় কাটান সরকারের তোষামোদে নাগরিক সেবা সেখানে পাওয়া দুষ্প্রাপ্য।আরো ভয়াবহ সময় অপেক্ষা করছে সবার জন্য ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীরা যখন যার যার গ্রামের বাড়ি যাবে সাথে নিয়ে যাবে তাদের জীবাণু। ভয়ংকর কিছু একটা ঘটতে যাচ্ছে এটা পরিষ্কার। সবকিছু যেন কেমন কেমন লাগছে।

প্রিয়া সাহা নামক ভদ্র মহিলা ট্রাম্পের কাছে যে বক্তব্য দিয়েছেন তা নিয়ে হয়েছে চরম আলোচনা৷ দেশের একজন নাগরিক যখন নিরাপত্তার জন্য অন্য দেশের রাষ্ট্র প্রধানের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তা পুরোপুরি রাষ্ট্র দ্রোহের শামিল।প্রিয়া সাহা যা করেছেন স্পষ্ট রাষ্ট্রদ্রোহ ও দেশবিরোধী। তবে অবশ্যই একজন ব্যক্তির বক্তব্য কেন্দ্র করে কখনই কোন সম্পদ্রায়কে আঘাত করা ঠিক হবে না। যারা এই আক্রমণ করবেন তারা সাম্প্রদায়িক অপরাধী হবেন। বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির একটি শান্তির দেশ। বহুকাল থেকেই ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে এদেশে শান্তিতে বসবাস করে আসছে। ভবিষ্যতের এই শান্তির ধারা থাকবে এটাই প্রত্যাশা করি।

এত সবকিছুর আড়ালে ঢাকা পরে গেছে শেয়ার বাজারের ২৭ হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি। ক্ষুদ্র বিনিয়োগ কারীরা আবারো দুর্নীতির শিকার। অনেক আশা নিয়ে বিনিয়োগ করে নিস্ব হয়ে ফিরতে হয়।শেয়ার বাজারের প্রতি এমনি মানুষের আস্থা দিন দিন হ্রাস পাচ্ছে। এ রকম ঘটনা সাধারন মানুষের কাছে শেয়ার বাজারকে আরো আস্থাহীন করে তুলবে।

সবকিছু নিয়ে কেউ আজ ভাল নেই ,সব কিছুতেই বিষাদের ছোঁয়া। নিম্নাঞ্চল ও উত্তর বঙ্গের জেলাগুলোতে বন্যা, গুজবের ছড়াছড়ি, ডেঙ্গুর প্রকোপ।

দেশে গত ১২ দিনে বিভিন্ন জেলায় মারা গেছে অন্তত ৮৭ জন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমারজেন্সী অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম এক হিসাবে এই তথ্য জানিয়েছে।

উৎকন্ঠা,আতংকে সবার জীবন। কোথায় যেন কেউ নেই। দায়িত্ব শীল কোন বক্তব্য নেই। সবকিছু যেন অদ্ভুত ভাবে চলছে।চারদিকে বিষাদের সুর। শ্রাবনের মেঘলা আকাশের মত শোকে সবার মন ভারী । মহান আল্লাহ তালা প্রিয় মাতৃভূমিকে রক্ষা করুক। সবাই সুস্থ ও স্বাভাবিক ভাবে জীবন যাপন করুক।

সব বিষাদ ছেড়ে আসুক নির্মল শান্তির সংবাদ।

লেখক: সাবেক শিক্ষার্থী, সরকার ও রাজনীতি বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়।

নিউজ গার্ডিয়ান/ এমএ/