আফগানিস্তানে ৬ মাসে প্রায় ৪০০০ নাগরিক হতাহত

আফগানিস্তানে পশ্চিমা সমর্থিত সরকার ও নেটো নেতৃত্বাধীন বাহিনীর কারণেই হতাহতের সংখ্যা বাড়ছে। আগের বছরগুলোর তুলনায় এ বছর হতাহতের সংখ্যা অনেক বেড়েছে।

মঙ্গলবার (৩০ জুলাই) এক প্রতিবেদনে জাতিসংঘ এমনটাই বলেছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

আফগানিস্তানে দেড় যুগ ধরে চলা যুদ্ধ বন্ধে তালেবান প্রতিনিধিদের সঙ্গে মার্কিন কর্মকর্তাদের ধারাবাহিক আলোচনা চলছে। ঠিক এ সময়ই আফগানিস্তানে বেসামরিক হতাহতের সংখ্যা নিয়ে এ প্রতিবেদন প্রকাশ করলো জাতিসংঘ।

এদিকে মার্কিন মধ্যস্থতাকারীরা আগামী ১ সেপ্টেম্বরের আগেই তালেবানের সঙ্গে একটি শান্তিচুক্তি করতে কাজ করে যাচ্ছে। তালেবান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের কূটনৈতিক এ তৎপরতার মধ্যেই দেশটিতে যুদ্ধের তীব্রতা আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে।

আফগানিস্তানে জাতিসংঘের সহায়তা মিশনের (ইউএনএএমএ) সর্বশেষ প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, স্থল অভিযান ও সংঘাতের ফলেই দেশটিতে সবচেয়ে বেশি বেসামরিক হতাহত হয়েছে। হতাহতের দিক দিয়ে এর পরের কারণ হিসেবে দুটি স্থানে আছে যথাক্রমে বোমা হামলা ও বিমান হামলা।

ইউএনএএমএ জানিয়েছে, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত তালেবান ও ইসলামিক স্টেটের হাতে ৫৩১ আফগান নিহত এবং এক হাজার ৪৩৭ জন আহত হয়েছে।

কট্টরপন্থি এ গোষ্ঠী দুটি পরিকল্পিতভাবেই ৯৮৫ জন বেসামরিকের ওপর হামলা চালিয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। হামলার শিকার এসব লোকজনের মধ্যে সরকারি কর্মকর্তা, বিভিন্ন আদিবাসী নেতা, দাতা সংস্থার কর্মী ছাড়াও ধর্মীয় নেতারা আছেন।

এ ছয় মাসে সরকার সমর্থকদের হাতে প্রাণ হারিয়েছেন ৭১৭ বেসামরিক আফগান। এছাড়া আহত হয়েছেন আরও ৬৮০ জন। এ সংখ্যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩১ শতাংশ বেশি বলেও প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

চলতি বছর নিহতদের মধ্যে ১৪৪ জন নারী ও ৩২৭টি শিশু।

জাতিসংঘের এ মিশন জানিয়েছে, দেশজুড়ে আহত নারী-শিশুর সংখ্যা হাজার ছাড়িয়েছে।

বিমান হামলায় হতাহতের সংখ্যা মোট ৫১৯ জনের মধ্যে শিশুর সংখ্যাই দেড়শ।

সন্ত্রাসবাদবিরোধী অভিযানে আফগান বাহিনীকে প্রশিক্ষণ, সহায়তা ও পরামর্শ দেওয়ার কার্যক্রমের আওতায় মার্কিন ও নেটোভুক্ত অন্যান্য দেশের স্বল্প সংখ্যক সৈন্য এখন দক্ষিণ এশিয়ার এ দেশটিতে অবস্থান করছে।

নিউজ গার্ডিয়ান/ এমএ/