কাশ্মির ইস্যুতে ‘অবস্থান স্পষ্ট’ করলো বাংলাদেশ

নিউজ গার্ডিয়ান, ঢাকা:

একতরফা ভাবে জম্মু-কাশ্মিরের স্বায়ত্তশাসনসহ বিশেষ সাংবিধানিক অধিকার বাতিল করে দুই ভাগ করেছে বিজেপি শাসিত কেন্দ্রীয় সরকার। সংবিধানের ৩৭০ ও ৩৫-এ অনুচ্ছেদ বাতিলের পর রাজ্য জুরে চলছে ব্যাপক দমন নিপিড়ন। এই ইস্যুতে সরগরম আন্তর্জাতিক অঙ্গন।

প্রতিবেশি দেশটির এই ইস্যুতে নিচ্চুপ ছিলে বাংলাদেশ সরকার। যদি ক্ষমতাসীন দলের সাধারণ সম্পাদক এ বিষয়ে দলীয় প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন আগেই। এবার আনুষ্ঠানিকভাবে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করলো বাংলাদেশ সরকার।

বাংলাদেশ বিষয়টিকে ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয় বলে মনে করছে। বুধবার (২১ আগস্ট) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তাদের এই অবস্থান স্পষ্ট করেন।

বিজ্ঞপ্তি বলা হয়, ভারতের সংবিধানের ৩৭০ ধারা বিলুপ্তির মধ্য দিয়ে কাশ্মিরে যে পরিবর্তন ঘটেছে, তা তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয় বলে মনে করে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ সব সময় বিশ্বাস করে, আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার পাশাপাশি সব দেশের জন্যই উন্নয়নে অগ্রাধিকার হওয়া উচিত।

বাংলাদেশ সরকার এমন সময় তাদের অবস্থান স্পষ্ট করলো যখন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এস জয়শঙ্কর বাংলাদেশে অবস্থান করছেন। ইতোমধ্যে তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন সঙ্গে বৈঠকও করেছেন।

উল্লেখ্য, গত ৫ আগস্ট একতরফা ভাবে জম্মু-কাশ্মিরের স্বায়ত্তশাসনসহ বিশেষ সাংবিধানিক অধিকার বাতিল করে দুই ভাগ করে নাদালকে বিচ্ছিন্ন করে নরেন্দ্র মোদি শাসিত কেন্দ্রীয় সরকার। সংবিধানের ৩৭০ ও ৩৫-এ অনুচ্ছেদ বাতিলের পর রাজ্য জুরে কারফিউ জারি করা হয়।

রাস্তাঘাট, দোকানপাট, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, অফিস আদালত, ইন্টারনেট, টেলিফোন সেবা বন্ধ করে দেয়া হয়। হাজার হাজার সেনা মোতায়েন করা হয়। পথে পথে টহল দিচ্ছে পুলিশ, সেনাবাহিনী ও প্যারামিলিটারির গাড়ি। কাঁটাতার আর ব্যারিকেড ফেলে বন্ধ করা হয় সব রাস্তাঘাট। নিষিদ্ধ করা হয় বিক্ষোভ-সমাবেশ।

কাশ্মিরি হাজার হাজার নেতাদের গ্রেফতার ও গৃহবন্দি করে রাখা হয়েছে। দুই-তিন জনকে এক সাথে দেখলে গ্রেফতার করা হচ্ছে। বাড়ি বাড়ি থেকে যুবকদের তুলে নিয়ে যাচ্ছে ভারতীয় বাহিনী। পুরো রাজ্যটা যেন কারাগারে পরিণত করা হয়েছে। মূলত কাশ্মীরকে বাকি বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন করে রেখেছে ভারত সরকার।

সংবিধানের ৩৭০ ধারায় জম্মু-কাশ্মীরকে বিশেষ মর্যাদা দেয়া হয়েছিল। পররাষ্ট্র, যোগাযোগ ও প্রতিরক্ষা ছাড়া বাকি সব ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতা ওই রাজ্যকে দেয়া হয়েছিল। তাদের আলাদা পতাকা ছিল। মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন। ছিল সংবিধান। কালে কালে সব হারিয়ে অবশিষ্ট ছিল সাংবিধানিক ধারা ও কিছু বিশেষ ক্ষমতা। এবার তাও বাতিল করা হলো।

প্রতিবেশী পাকিস্তান এর তীব্র সমালোচনা করছে। প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে ইমরান খানের সরকার ভারতের সঙ্গে বাণিজ্যিক-সাংস্কৃতিক সম্পর্ক ছেদ করার পাশাপাশি ইসলামাবাদ থেকে ভারতীয় হাইকমিশনারকে বহিষ্কার করে এবং দিল্লি থেকে নিজেদের রাষ্ট্রদূতকে ফিরিয়ে নেয়। এই ইস্যুতে তাদের মধ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি বিরাজ করছে। বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক আদালতে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে পাকিস্তান।