ইবিতে সাংবাদিকদের মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ

ইবি প্রতিনিধি:

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমার বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বশেমুরবিপ্রবি) শিক্ষার্থী ও সাংবাদিককে সাময়িক বহিষ্কার ও হয়রানির ঘটনার জড়িতদের শাস্তি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশ নিশ্চিতের দাবিতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মরত সাংবাদিকরা।

বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১২ টায় ‘মৃত্যুঞ্চয়ী মুজিব’ ম্যুরালের সামনে এই মানববন্ধন করে তারা।

জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে স্ট্যাটাস দেওয়াকে কেন্দ্র করে বশেমুরবিপ্রবি’র শিক্ষার্থী ও কর্মরত দ্যা ডেইলি সানের ক্যাম্পাস প্রতিনিধি ফাতেমা তুজ জিনিয়াকে গত ১১ সেপ্টেম্বর সাময়িক বহিষ্কার করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। সেই সাথে তাকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হয়। একই সাথে বিশ্ববিদ্যালয়ের আলোাকিত বাংলাদেশ প্রতিনিধি শামস জেবিনে উপর হামলা চালায় ছাত্রলীগ। এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাতে বাংলাদেশ ক্যাম্পাস জার্নালিস্ট’স ফেডারেশনের আহ্বানে এই মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করে ইবি প্রেসক্লাব।

এদিকে ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানাতে ইবি প্রেসক্লাবের সাথে একাত্মতা পোষন করে মানববন্ধনে অংশ নেয় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক সমিতি।

মানববন্ধনে ইবি প্রেসক্লাবের সাংস্কৃতিক সম্পাদক রুমি নোমানের সঞ্চালনায় প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সহ-সভাপতি এবং দৈনিক জনকন্ঠের বিশ^বিদ্যালয় প্রতিনিধি আসিফ খান, সাধারণ সম্পাদক এবং কালের কন্ঠ প্রতিনিধি শাহাদাত তিমির, সভাপতি এবং দৈনিক সংবাদ প্রতিনিধি ফেরদাউসুর রহমান সোহাগ। এসময় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সককার মাসুম, দপ্তর সম্পাদক এ আর রাশেদ, কোষাধ্যক্ষ তারিক বিন নজরুল, ক্রিড়া সম্পাদক আবু হুরাইরাসহ সংগঠনের অন্যন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

ইবি প্রেসক্লাবের সভাপতি ফেরদাউসুর রহমান সোহাগ তার বক্তব্যে বলেন, একজন সাংবাদিক কিংবা শিক্ষার্থী অবশ্যই গঠনমূলক সমালোচনা করার অধিকার রাখে। আর এই সমালোচনা গ্রহন করার মানসিকতা একজন শিক্ষক কিংবা উপাচার্যের থাকতে হবে। অন্যথায় তিনি কখনও ভাল শিক্ষক হতে পারে না। তাছাড়া সাংবাদিকরা জাতির আয়না স্বারুপ। সেই সাথে দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ।

এদিকে বাংলাদেশ ক্যাম্পাস জার্নালিস্ট’স ফেডারেশনের ২৪ ঘন্টার আল্টিমেটের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ফেডারেশনের দেয়া এই ২৪ ঘন্টা সময়ের মধ্যে জিনিয়াকে হয়রানির পেছনে জড়িতদের শাস্তির আওতায় না আনলে সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকরা সম্মিলিতভাবে কঠোর আন্দোলনে নামবো। এছাড়াও সংবিধানের আইন অনুযায়ী একজন সাংবাদিকের স্বাধীন কার্যক্রমের উপর হস্তক্ষেপ করা অপরাধ বলে তিনি বলেন, দেশের সকল ক্যম্পাসেই স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর স্বচ্ছ পরিবেশ নষ্ট হবে।

নিউজ গার্ডিয়ান/আদিল সরকার/ এমএ/