যে চার অভিযোগে সাজা

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জামায়াতের সাবেক সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম আজহারুল ইসলামের বিরুদ্ধে ছয়টি অভিযোগ আনে প্রসিকিউশন। এর মধ্যে পাঁচটি অভিযোগ প্রমাণিত হয় ট্রাইব্যুনালের রায়ে। আর আপিলে প্রমাণিত হয়েছে চারটি অভিযোগ।

এর মধ্যে দুই, তিন ও চার নম্বর অভিযোগে বিচারপতিদের সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগ। সর্বসম্মতভাবে পাঁচ নম্বর অভিযোগ থেকে খালাস পেয়েছেন আজহার। ছয় নম্বর অভিযোগে পাঁচ বছরের সাজা বহাল রয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৩১ অক্টোবর) সকাল ৯টা ৫ মিনিটে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে আপিল বিভাগের চার বিচারপতির বেঞ্চ তার মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখে রায় দেন। বেঞ্চের অপর তিন সদস্য হলেন-বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী, বিচারপতি জিনাত আরা ও বিচারপতি মো. নুরুজ্জামান।

ট্রাইব্যুনালের রায়ে সন্দেহাতীতভাবে পাঁচটি অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছিল। এর মধ্যে দুই, তিন ও চার নম্বর অভিযোগে তাকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়। পাঁচ নম্বর অভিযোগে ২৫ বছর ও ছয় নম্বর অভিযোগে পাঁচ বছর কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছিলেন ট্রাইব্যুনাল। এক নম্বর অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় খালাস পান তিনি।

আজহারের বিরুদ্ধে ছয় অভিযোগ:

প্রথম অভিযোগ: ১৯৭১ সালের ২৪ মার্চ থেকে ২৭ মার্চের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, ভাসানী (ন্যাপ) নেতা ও রংপুর শহরের বিশিষ্ট আয়কর আইনজীবী এ ওয়াই মাহফুজ আলীসহ ১১ জনকে অপহরণ, আটকে রেখে শারীরিক নির্যাতন করা এবং ৩ এপ্রিল রংপুর শহরের দখিগঞ্জ শ্মশানে নিয়ে ‘বার্স্টফায়ার’ করে তাদের হত্যা করা৷ এটি ট্রাইব্যুনালের রায়ে প্রমাণিত হয়নি। ফলে এ অভিযোগের বিরুদ্ধে আপিল হয়নি।

দ্বিতীয় অভিযোগ: একাত্তরের ১৬ এপ্রিল তার নিজ এলাকা রংপুরের বদরগঞ্জ থানার ধাপপাড়ায় ১৫ জন নিরীহ, নিরস্ত্র বাঙালিকে গুলি করে হত্যা, গণহত্যা, লুণ্ঠন ও অগ্নিসংযোগ৷ এ অভিযোগে ট্রাইব্যুনালের মৃত্যুদণ্ডের রায় বহাল রয়েছে আপিলে।

তৃতীয় অভিযোগ: একই বছরের ১৭ এপ্রিল নিজ এলাকা বদরগঞ্জের ঝাড়ুয়ারবিলে অন্তত ১২শ’ নিরীহ লোককে ধরে নিয়ে হত্যা, গণহত্যা, লুণ্ঠন ও অগ্নিসংযোগ৷ আপিলে এ অভিযোগে মৃত্যুদণ্ডের রায় বহাল রয়েছে।

চতুর্থ অভিযোগ: ১৭ এপ্রিল কারমাইকেল কলেজের চারজন অধ্যাপক ও একজন অধ্যাপকের স্ত্রীকে কলেজ ক্যাম্পাস থেকে অপহরণ করে দমদম ব্রিজের কাছে নিয়ে গুলি করে হত্যা৷ এ অভিযোগে মৃত্যুদণ্ডের রায় বহাল রয়েছে আপিলে।

পঞ্চম অভিযোগ: ২৫ মার্চ থেকে ১৬ ডিসেম্বরের মধ্যে রংপুর শহর ও বিভিন্ন অঞ্চল থেকে নারীদের ধরে এনে টাউন হলে আটকে রেখে ধর্ষণসহ শারীরিক নির্যাতন চালানো৷ একই সঙ্গে নারীসহ নিরীহ নিরস্ত্র বাঙালিদের অপহরণ, আটক, নির্যাতন, গুরুতর জখম, হত্যা ও গণহত্যা৷ এ অভিযোগ থেকে সর্বসম্মতভাবে ২৫ বছরের সাজা থেকে খালাস দিয়েছেন আপিল বিভাগ।

ষষ্ঠ অভিযোগ: একাত্তরে নভেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে রংপুর শহরের গুপ্তপাড়ায় একজনকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়৷ একই বছরের ১ ডিসেম্বর রংপুর শহরের বেতপট্টি থেকে একজনকে অপহরণ করে রংপুর কলেজের মুসলিম ছাত্রাবাসে নিয়ে আটক রেখে অমানুষিক শারীরিক নির্যাতন ও গুরুতর জখম৷ এ অভিযোগে আপিলে পাঁচ বছরের সাজা বহাল আছে।

নিউজ গার্ডিয়ান/ এমএ/