ইবি ছাত্রলীগ নেতার পরিবারকে হুমকি, আটক ৪

ইবি প্রতিনিধি:

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) শাখা ছাত্রলীগের সাবেক ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক মিজানুর রহমান লালনের পরিবারকে হুমকি দিয়েছে বলে এক কর্মচারীর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে।

হুমকি দিয়ে ফেরার পথে চারজনকে আটক করেছে কুষ্টিয়ার মিরপুর থানার আমলা বাজার ফাড়ি পুলিশ। ঘটনায় ক্যাম্পাসে তাৎক্ষণিক বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করে জড়িতদের শাস্তি নিশ্চিতের দাবি জানায় শাখা ছাত্রলীগের বিদ্রোহী গ্রুপের নেতাকর্মীরা।

জনা যায়, শুক্রবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিটি সেলের কর্মচারী ইলিয়াস জোয়ার্দার স্থানীয়সহ ৭-৮জন লোক নিয়ে মেহেরপুর জেলার গাংনী উপজেলায় লালনের গ্রামে মাইক্রোবাসসহ ঘোরাফেরা করতে থাকেন। পরে সন্ধ্যায় লালনের বাড়ি যায়। সেখানে লালনকে না পেয়ে তার পরিবারকে হুমকি দেয় তারা। লালনের দাবি হুমকিদাতারা তাকে না পেয়ে তার পরিবারকে বলেন, লালনের সাহস অনেক বেড়ে গেছে সে ক্যাম্পাসে ভিসির বিরুদ্ধে আন্দোলন করে। তাকে এরপর থেকে এধরণের সব কর্মকান্ডের ব্যাপারে সতর্ক থাকতে বলবেন অন্যথায় ওর সমস্যা হবে। এসময় অভিযুক্তরা তার প্রাণনাশের হুমকিও দেয় বলে দাবী করেন লালন।

পরে লালনের বাড়িতে হুমকি দেওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকাবাসী মটরসাইকেল নিয়ে তাদেরকে ধাওয়া দেয়। এসময় পুলিশকে জানালে মিরপুর থানার অধীন আমলা বাজার ফাঁড়ি পুলিশ গিয়ে তাদের চারজনকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তার হওয়া অন্যরা হলেন ক্যাম্পাস পাশর্^বর্তী শেখপাড়ার বাসিন্দা উজ্জ্বল জোয়ার্দার, গাংনীর বেদবাড়ীয়া গ্রামের বাসিন্দা সবুজ ও ওবায়দুল। এর মধ্যে আটককৃত উজ্জল এর আগে মাদক সেবন ও ব্যবসার দায়ে ইবি পুলিশের কাছে গ্রেফতার হয়েছিল। পরে রাতে আটককৃতদের জিজ্ঞাসাবদের জন্য কুষ্টিয়া ডিবি পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছিল বলে জানা যায়।

এদিকে লালনের পরিবারকে হুমকি দেয়ার খবর ক্যাম্পাসে ছড়িয়ে পরলে শুক্রবার রাতেই বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করে শাখা ছাত্রলীগের বিদ্রোহী গ্রুপের নেতাকর্মীরা।

পরে শনিবার দুপুরেও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করে তারা। এসময় ক্যাম্পাস থেকে দুপুর দুইটার বাস কুষ্টিয়া ও ঝিনাইদহ জেলার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যেতে পারেনি। এতে চরম ভোগান্তিতে পরে সাধারণ শিক্ষক শিক্ষার্থীরা।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমানের এ হুমকির নির্দেশ দিয়েছেন বলে সমাবেশে দাবি করেন বক্তারা। এসময় ড. মাহবুবের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেয় বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা। সেইসাথে এ ঘটনার সাথে জড়িত কর্মচারীসহ সকলের শাস্তি নিশ্চিতের দাবি করেন তারা। সমাবেশ শেষে উপাচার্য সঙ্গে সাক্ষাত করেন নেতাকর্মীরা।

এসময় উপাচার্য অধ্যাপক ড. হারুন-উর-রশিদ আসকারী বলেন, ‘বিশ্বদ্যালয়ের কোন কর্মকর্তা বা কর্মচারী পুলিশের মাধ্যমে আটকের ঘটনা ঘটলে তাকে বহিষ্কার করা হবে। তবে এখনও আমাদের হাতে থানা থেকে কোন কাগজ পৌঁছায়নি।’

এবিষয়ে মিজানুর রহমান লালন বলেন,”বিভিন্ন সময় ক্যাম্পাসে দুর্নীতি বিরোধী আন্দোলন করায় আমার বাড়িতে সাবেক প্রক্টর ড. মাহবুবর রহমান লোক পাঠিয়ে হুমকি দিয়েছে। এর আগেও আরেক নেতার বাড়িতে র‌্যাব পঠিয়ে হুমকি দেয়া হয়েছিল। আমি আমার ও পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত। আটককৃতদের বিরুদ্ধে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’

এ বিষয়ে কুষ্টিয়া ডিবির ওসি আমিনুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ‘পুলিশ আমাদের কাছে ইবির কর্মচারীসহ চারজনকে হস্তান্তর করেছিলো। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ শেষে গাংনিতে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে।’

নিউজ গার্ডিয়ান/আদিল সরকার/ এমএ/