নবম দিনের অবরোধ-ধর্মঘটে স্থবির জাবি

দুর্নীতির অভিযোগে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলামকে অপসারণের দাবিতে চলমান অবরোধ-ধর্মঘটের তীব্রতা বৃদ্ধি পেয়েছে। এতদিন প্রশাসনিক ও একাডেমিক ভবন অবরোধের আওতায় থাকলেও আজ রোববার থেকে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কার্যালয়কে এই অবরোধের আওতায় আনা হয়। ফলে ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর’ ব্যানারে হওয়া কয়েকদিনের এই টানা অবরোধ-ধর্মঘটে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রমে কার্যত স্থবিরতা তৈরি হয়েছে।

দ্রুততম সময়ের মধ্যে ক্যাম্পাসে বিদ্যমান এই অচলাবস্থার সমাধান না হলে জাবিকে ঘিরে গভীর সংকট তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্ববিদ্যালয়টির অংশীজনরা। ইতোমধ্যেই ৩ মাস ধরে চলমান আন্দোলনে কার্যত বন্ধ হয়ে পড়েছে প্রশাসনিক সকল কার্যক্রম। খুব একটা ব্যহত না হলেও ধীর লয়ে চলছে শিক্ষা কার্যক্রম। বিশেষ করে আন্দোলনের পক্ষে-বিপক্ষের শিক্ষকরা রাজনৈতিক কার্যক্রমে ব্যস্ত থাকায় শিক্ষা কার্যক্রমের স্বাভাবিক গতি নষ্ট হচ্ছে। অন্যদিকে, প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ থাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের আমলাতান্ত্রিক জটিলতা বেড়েই চলেছে।

রবিবার লাগাতার অবরোধ কর্মসূচির ৯ম দিনেও বন্ধ ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন ও পুরাতন প্রশাসনিক ভবনের সকল কার্যক্রম। আন্দোলনকারীরা সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন কলা ও মানবিকী অনুষদ ভবন, সমাজবিজ্ঞান অনুষদ ভবন এবং পুরাতন কলা ভবনে তালা লাগিয়ে দেয়। উপাচার্যপন্থি শিক্ষকরা তালা কেটে ভবনে প্রবেশ করেন। আন্দোলনের কারণে বেশ কয়েকটি বিভাগে ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ থাকলেও অনেক বিভাগে ক্লাস-পরীক্ষা নিয়েছেন উপাচার্যপন্থি শিক্ষকরা।

এদিকে, সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কার্যালয় অবরোধ করে রাখে আন্দোলনকারীরা। আন্দোলনকারীদের বাঁধায় দুটি ভবনই দিনভর বন্ধ ছিল। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক এবং শিক্ষা কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে জানিয়ে গতকাল এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রচার করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ কার্যালয়।

অন্যদিকে জাবিতে উন্নয়ন কার্যক্রমে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ সম্পর্কে দুদককে তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। পাশাপাশি দুর্নীতির তদন্ত চলাকালে প্রভাবমুক্ত তদন্তের স্বার্থে উপাচার্যের স্বপ্রণোদিত সাময়িক পদত্যাগের আহ্বানও জানিয়েছে সংগঠনটি। গতকাল গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই আহ্বান জানায় তারা। গতকাল সন্ধ্যা ৬টায় এই প্রতিবেদন তৈরির সময় আরো জানা যায়, সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় আন্দোলনকারী শিক্ষকদের সাথে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

প্রসঙ্গত, জাবিতে চলমান সাড়ে ১৪শ কোটি টাকার অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্প থেকে ছাত্রলীগকে দুই কোটি টাকা ঈদ সেলামি দেয়ার অভিযোগ উঠার পর থেকে উপাচার্যের অপসারণ দাবিতে গত ৩ মাস যাবত লাগাতার আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে গড়ে উঠা সংগঠন ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর’।