জাবি ভিসিকে সাময়িক পদত্যাগের আহ্বান টিআইবির

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নয়ন প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগের তদন্তের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) আহ্বান জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ। একইসাথে প্রভাবমুক্ত তদন্তের স্বার্থে উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলামকে স্বপ্রণোদিত হয়ে সাময়িক পদত্যাগের আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।

রোববার গণমাধ্যমে প্রেরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানায় সংস্থাটি।

দুর্নীতির অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দ্রুত শাস্তির আওতায় এনে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার সার্বিক পরিবেশ নিশ্চিতের আহ্বান জানিয়ে টিআইবি বলছে, ‘জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নয়ন কার্যক্রমে সরাসরি অবৈধ আর্থিক লেনদেনসহ অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগের প্রেক্ষিতে ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র সংগঠনের কেন্দ্রীয় দুই শীর্ষ নেতাকে অপসারণ একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ ছিল। কিন্তু স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতে এই উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। বিশ্ববিদ্যালয়টির উপাচার্য ও তার পরিবারের সদস্যদের অবৈধ লেনদেনে জড়িত থাকার যে অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে এখনো তার কোন তদন্ত হয় নি। অবিলম্বে দুদককে তার আইনগত অবস্থান থেকে দুর্নীতির এই অভিযোগের বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্তের আহ্বান জানাই এবং তদন্তে কেউ দোষী প্রমাণিত হলে তাদের জবাবদিহিতার আওতায় আনার দাবি জানাই।’

তদন্ত পরিচালনার স্বার্থে জাবি উপাচার্যকে সাময়িকভাবে স্বপ্রণোদিত হয়ে দায়িত্ব পালন হতে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে টিআইবি’র নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘যেকোন অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত কাউকে অপরাধী বলা যায় না। তাই তদন্তে উপাচার্যের সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত না হলে তার পদে পুনর্বহাল জনগণ সাদরে গ্রহণ করবে। আমরা আগেও বলেছি যে, বিশ্ববিদ্যালয়সহ সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সকল ধরনের উন্নয়ন কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা অপরিহার্য এবং এর প্রধান দায়িত্ব উপাচার্যসহ বিশ্ববিদ্যালয়টির শীর্ষ পর্যায়ের কর্তৃপক্ষের। তাই জাবিতে উন্নয়ন কার্যক্রমে দুর্নীতির অভিযোগের প্রেক্ষিতে যথাযথ তদন্তের উদ্যোগ গ্রহণ না করতে পারা অনভিপ্রেত ও বিব্রতকর।’

ড. ইফতেখারুজ্জামান দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে সকল প্রকার নিয়ন্ত্রণমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ থেকে বিরত থাকা এবং উত্থাপিত অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগের প্রেক্ষিতে যথাযথ আইনী প্রক্রিয়ায় ন্যায় বিচার নিশ্চিতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানান।

এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়টির চলমান অচলাবস্থা নিরসনে এবং গুরুত্বপূর্ণ এই প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার উপযুক্ত পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে সরকার ও দায়িত্বপালনরত সরকারী বিভিন্ন সংস্থাসমূহকে কঠোর নিরপেক্ষতা বজায় রাখার মাধ্যমে দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত সকলের জবাবদিহিতা নিশ্চিতের আহ্বান জানান তিনি।

প্রসঙ্গত, জাবিতে চলমান সাড়ে ১৪শ কোটি টাকার অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্প থেকে ছাত্রলীগকে দুই কোটি টাকা ঈদ সেলামি দেয়ার অভিযোগ উঠার পর থেকে উপাচার্যের অপসারণ দাবিতে প্রায় ৩ মাস যাবত ধারাবাহিকভাবে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের একাংশ।