ছাত্রলীগের হামলা: সম্পাদকসহ শিক্ষক সমিতি থেকে ৪জনের পদত্যাগ

দুর্নীতির অভিযোগে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলামের অপসারণ দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রলীগের হামলার প্রতিবাদে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির কার্যনির্বাহী পরিষদ থেকে চার শিক্ষক পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তারা হলেন, সাধারণ সম্পাদক মো. সোহেল রানা, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক মনোয়ার হোসেন তুহিন, সদস্য অধ্যাপক মাহবুব কবির ও অধ্যাপক সাঈদ ফেরদৌস।

এ তথ্য নিশ্চিত করে অধ্যাপক সোহেল রানা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘হামলায় ছাত্র-শিক্ষক উভয়ই আহত, লাঞ্ছিত, হেনস্তা হয়েছেন। বিষয়টাকে শুধু দুঃখজনকই বলতে পারলাম। এর বেশি কিছু করতে পারলাম না। একটা নিন্দা প্রস্তাব পর্যন্ত নিতে পারি না। বিচার চাইতে পারি না। তাহলে শিক্ষক সমিতিতে কি আমরা যথাযথ দায়িত্ব পালন করলাম!’

তিনি আরও বলেন, ‘অনেক দিন থেকেই আমরা পদত্যাগের কথা ভাবছি। বেশ কিছু বিষয়ে সমিতিতে কাজ করতে গিয়ে আমরা বিব্রত হয়েছি। একদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থ, আরেকদিকে শিক্ষকদের স্বার্থ, কোনও বিষয়েই আমরা বোধহয় সেরকম ভূমিকা রাখতে পারলাম না। তাই শিক্ষক সমিতিতে পদ আগলে রাখার কোনও মানে হয় না।’

আজ মঙ্গলবার রাতেই শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক অজিত কুমারের কাছে পদত্যাগপত্র পৌঁছে দেওয়া হবে বলে জানান অধ্যাপক সোহেল রানা।

উল্লেখ্য, দুর্নীতির অভিযোগে জাবি উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলামের বিরুদ্ধে বেশ কিছু দিন ধরেই আন্দোলন চলছে। আজ মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে আন্দোলনকারী শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। হামলায় আট জন শিক্ষকসহ অন্তত ২৫ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। জাবি শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মো. জুয়েল রানার নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন চত্বর থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে এসে আন্দোলনরতদের ওপর হামলা চালায় ছাত্রলীগ। হামলা চলাকালে উপাচার্যের বাসভবনের নিরাপত্তায় নিয়োজিত পুলিশকে নীরব ভূমিকা পালন করতে দেখা যায়। এছাড়া উপাচার্যপন্থী শিক্ষক-কর্মকর্তাদের ‘ধর ধর’, ‘জবাই কর’ স্লোগান দিয়ে হামলায় উসকানি দিতে দেখা গেছে।