আইডিটি আমার নয়, ফেইক- সাদ্দাম

উপাচার্যের কাছ থেকে ঈদ সালামি হিসেবে টাকা পাওয়ার কথা স্বীকারকারী জাবি ছাত্রলীগের যুগ্মসম্পাদক সাদ্দাম হোসেনের নাম ব্যবহার করে একটি ফেসবুক আইডি খোলা হয়েছে। আইডি থেকে স্ট্যাটাস দিয়ে দাবি করা হয়েছে টাকা পাওয়ার কথা স্বীকার করে মিডিয়ায় যে বক্তব্য তিনি দিয়েছিলেন সেটি সঠিক ছিল না।
তবে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে সাদ্দাম সাংবাদিকদের কাছে দাবি করেছেন আইডিটি তার নয়, ফেইক। এমন কোন স্ট্যাটাসও তিনি দেননি।
আইডি ঘুরে দেখা যায় আজ বৃহস্পতিবার দুপুর একটার দিকে আইডিটি খোলা হয়। আজকেই পোস্ট করা দু’টি ফটো ছাড়া সেখানো আর কোন স্ট্যাটাস নেই।
এর আগে গত সেপ্টেম্বর মাসে সাদ্দাম হোসেন প্রকাশ্যে মিডিয়ার সামনে বলেন উপাচার্য ঈদ সালামি হিসেবে শাখা ছাত্রলীগকে ১ কোটি টাকা দিয়েছেন। যেখান থেকে সাদ্দামের গ্রুপ ২৫ লাখ টাকা পেয়েছেন। প্রশাসন এটাকে ষড়যন্ত্র আখ্যা দিলে সাদ্দাম চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন যে ভিসির ছেলে প্রতিকের সাথে টাকা দেয়ার আগেপরে যে ফোনালাপ হয়েছিল সেটির রেকর্ড বের করলেই টাকা দেয়ার বিষয়টি প্রমাণ হয়ে যাবে। এ বক্তব্যের দিনই সাদ্দামের মুঠোফোন সংযোগটি ডিজেবল করে দেয়া হয়।
সাদ্দাম হোসেন নামে খোলা আইডিটি থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ফেসবুক গ্রুপে যে স্ট্যাটাস দেয়া হয় তা নিম্নে তুলে ধরা হলো-
“আমি সাদ্দাম, দর্শন ৩৯ তম আবর্তন। অনেকদিন ধরে কিছু কথা বলতে চেয়েছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার আজকের বক্তব্যের পর কথাগুলো বলা দরকার।
আমার কথাকে কেউ এভিডেন্স হিসেবে কাউন্ট করবেন না৷ ফোনালাপ ফাসের পর মিডিয়ায় দুইদিন দুই রকম কথা বলেছি। প্রথম দিন ‘রাজনীতি করি রাব্বানী ভাইর, সে আমার নেতা, যা বলে বলতে হয়’ এই উক্তি সমকাল সহ অনেক পত্রিকায় এসেছে। পরের দিন টেলিভিশনে যা বলেছি সেটা আমার রাজনৈতিক গুরু জাবি ছাত্রলীগের সাবেক সেক্রেটারি রাজিব আহমেদ রাসেলের কথামত বলেছি। আমার আর রাজীব আহমেদ রাসেলের কল রেকর্ড বের করলে এর প্রমান পেয়ে যাবেন।
সাংবাদিকদের সাথে আলাপে ভিসির বাড়িতে কি কথা হয়েছে না হয়েছে এগুলো আমি বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ততকালীন সাধারণ সম্পাদকের কথামতই বলেছি৷ আমি সাংবাদিকদের কেবল আমার বরাতে নিউজ করতে বলেছি। প্রমান তথ্য এসব সংগ্রহ করা তাদের কাজ, এটা না নিয়ে নিউজ করলে এটা তার দায়। আমি রাজনীতি করতাম, অতএব রাজনৈতিকভাবে আমার কথাকে কেউ প্রমান হিসেবে দাখিল করার চেষ্টা করবেন না।
দূর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর ব্যানারে যেদিন প্রথম মিছিল হয়, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের টিভিরুমে আমি এর প্রথম প্রতিবাদ করেছিলাম। এর ভিডিও এই গ্রুপেই আছে। আমার সেই বক্তব্য আর মিডিয়ার বক্তব্য পরস্পর বিরোধী। রাজনৈতিক ব্যক্তির কথা সে তার মত বলবে, মিডিয়ার কাজ সেটা যাছাই বাছাই করে উপস্থাপন করা।
আমি ক্যাম্পাস ছেড়ে দিয়েছি, আমি এখন অছাত্র। আমার বক্তব্যকে ঘিরে যদি কেউ আন্দোলন করে সেটা তাদের ব্যাপার। তবে আমার কথা বলা সম্পূর্ণ আমার রাজনৈতিক স্বার্থে ছিল। লেনদেন আসলেই হয়েছিল কিনা, টাকা কোথা থেকে আসল এসব যাচাই করা গণমাধ্যমের কাজ। একজনের বক্তব্য কখনোই কোন দলিল না। আপনাদের কারো তথ্য প্রমান বা বরাতে আমার নাম জরাবেন না। ভবিষ্যতের কোন তদন্ত কমিটি হলে সেখানে আমাকে জরিয়ে কেউ কথা বলবেন না।”
নিউজ গার্ডিয়ান/ এমএ/