লজ্জায়, হতাশায় ঘর থেকে বের হন না পাপন

ইন্দোর টেস্টে ভারতের কাছে ইনিংস ও ১৩০ রানে হেরেছে বাংলাদেশ। প্রত্যাশার কিঞ্চিত পরিমাণও যে ক্রিকেটাররা পূরণ করতে পারেননি আক্ষেপ নিয়েই সে কথা জানালেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন।

তবে বোর্ড সভাপতির মন ভেঙেছে ভারতের বিপক্ষে টি-২০ সিরিজটা হেরে যাওয়ায়। সেই ক্ষত এখনও বয়ে বেড়াচ্ছেন বিসিবি বস। এমনকি টি-টোয়েন্টি হারের পর লজ্জা আর হতাশায় নাকি তিনি ঘর থেকেই বের হতে চান না। তবে এখানেই থেমে থাকতে রাজি নন পাপন, জানালেন টেস্ট দল নিয়ে বিশেষ পরিকল্পনার কথাও।

গতকাল শনিবার বিকেলে ইন্দোর টেস্টে কোহলিদের কাছে মুশফিক-মুমিনুল-মাহমুদউল্লাহদের উড়ে যাওয়ার কিছুক্ষণ পরই রাজধানীর একটি পাঁচতারকা হোটেলে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) লোগে উন্মোচন শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এসব কথা জানান পাপন।

এসময় বিসিবি সভাপতি বলেন, ‘টেস্ট তো পরে…মন তো ভেঙেছে টেস্টের আগেই। অনেক আশা ছিল টি-টোয়েন্টি সিরিজটা আমরা জিতবো। এর আগেও তিনবার আমরা ভারতের সঙ্গে শেষ ওভারে বা শেষ বলে হেরেছি। প্রতিবারই শেষ করতে গিয়ে হেরেছি।’

এসময় তিনি ভারতের মাটিতে ২০১৬ সালে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ভারতের বিপক্ষে জেতা ম্যাচ হেরে যাওয়া ও শ্রীলঙ্কার ভারতের বিপক্ষে নিদাহাস ট্রফির ফাইনালে জিততে জিততে শেষ ওভারে হারের কথা উল্লেখ করেন।

পাপন বলেন, ‘এবার ভারতের বিপক্ষে আমাদের শুরুটা দারুণ ছিল। দ্বিতীয় ম্যাচে দারুণ খেলে ওরা সমতা ফিরিয়েছে। তবে তৃতীয় ম্যাচ তো নিশ্চিত জেতা ছিল। ওই হারটা আসলে মেনে নিতে পারছি না…আমি বাসা থেকেই বের হই না। কোথাও যেতেই চাই না। ওই ম্যাচটা হারবো তা মেনেই নিতে পারছি না।’

দিল্লিতে ভারতকে ৭ উইকেটে উড়িয়ে দুর্দান্ত শুরুর পর তৃতীয় ম্যাচে বাজেভাবে হেরে টি-টোয়েন্টি সিরিজ খুইয়েছে বাংলাদেশ। কিন্তু উদীয়মান অপেনার নাঈম শেখের ৪৮ বলে ৮১ রানের ইনিংসটার পরও পরের ব্যাটসম্যানরা পরিস্থিতির সামান্যতম দাবিটুকুও মেটাতে পারেননি বলে মনে করেন বিসিবি সভাপতি।

পাপন বলেন, ‘নাঈমের ইনিংসটার পর অন্যরা যদি একটু অবদান রাখতো তাহলেই সিরিজটা আমাদের হয়ে যেতো।’

ওই ম্যাচে দলের সিনিয়র তথা অন্য ক্রিকেটারদের দিকে ইঙ্গিত করে তিন বলেন, ‘নাঈমের মতো একটি ছেলে যদি রান করতে পারে, মিঠুন যদি রান করতে পারে তবে আমাদের মূল ক্রিকেটার সৌম্য-লিটন-মুশফিক-রিয়াদরা ১০ রান করে করলেও তো আমরা ম্যাচটা জিততাম। ফাইনালে সিনিয়র ক্রিকেটারদের কাছ থেকে সাপোর্ট না পেলে তো দুর্ভাগ্যই বলতে হয়। সেই না হওয়ার শোক এখনও ভুলতে পারছি না।’

টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের অসহায় আত্মসমর্পণ প্রসঙ্গে নাজমুল হাসান বলেন, ‘আমরা নতুন অনেককেই পরখ করবো। টেস্টে আমরা সবচেয়ে পেছনে। সবচেয়ে দুর্বল। ভারতে দেখুন- রোহিত শর্মা ছাড়া টি-টোয়েন্টি সিরিজ থেকে টেস্ট দলে আর কেউ নেই। আমাদেরও টেস্টের জন্য আলাদা দল করতে হবে। আশা করি আগামী এক-দেড় বছরের মধ্যে একটা প্রপার টেস্ট দল দাঁড় করাতে পারবো।’

আগামী ২২ নভেম্বর কলকাতার ইডেন গার্ডেনে গোলাপি বলের টেস্ট দিয়ে প্রথমবারের মতো ভারতে কোনও পূর্ণাঙ্গ সফর শেষ করবে বাংলাদেশ।

নিউজ গার্ডিয়ান/ এমএ/