হঠাৎ অস্থির চবি, অভিযোগ ছাত্র উপদেষ্টার বিরুদ্ধেই!

নিউজ গার্ডিয়ান, চবি:

দীর্ঘ ১৯ মাস পর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) শাখা ছাত্রলীগের কমিটি হলো। উপাচার্য পরিবর্তন হলো। ক্যাম্পাসে কোন ঝামেলা হয় নি। কিন্তু যখনই বহুল বিতর্কিত সাবেক প্রক্টর সিরাজ উদ দৌলাকে ছাত্র উপদেষ্টা নিয়োগ দেয়া হলো তখন থেকেই ক্যাম্পাসে শুরু হলো একের পর এক অস্থিরতা।

ছাত্রলীগের একাংশের অভিযোগ সিরাজ উদ দৌলা ছাত্র উপদেষ্টা নিয়োগ পাওয়ার পর ক্যাম্পাসে আধিপত্য কায়েমে তিনি আবার তার অংশের ছাত্রলীগকে দিয়ে মারধর ও সংঘাতের ঘটনা ঘটাচ্ছেন।

অভিযোগ আছে, প্রক্টর থাকাকালীন অধ্যাপক সিরাজ উদ দৌলার ছাত্র হত্যায় মদদ দিয়েছেন। ছাত্রলীগের মধ্যে গ্রুপিং বাঁধিয়ে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

আরো অভিযোগ আছে সিরাজ উদ দৌলা তাপস হত্যায় অভিযুক্ত ‌ভিএক্স গ্রু‌পের নেতা মিজানুর রহমান বিপুল ও প্রদীপ চক্রবর্তী দূর্জয়কে সমর্থন দিয়ে ক্যাম্পাস অস্থিতিশীল করে রেখেছেন। দুজনই তাপস সরকার হত্যা মামলার চার্জশিটভুক্ত পলাতক আসামি।

এর আগে ২০১৩ ও ২০১৪ সালে নানা অনিয়মে অভিযুক্ত প্রক্টর সিরাজ উদ দৌলার পদত্যাগের দাবিতে দিনের পর দিন বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ করে রেখেছিল ছাত্রলীগ।

২০১৪ সালের ১৪ ডিসেম্বর ছাত্রলীগকর্মী ও শাটল ট্রেনের বগিভিত্তিক গ্রুপ সিএফসির তাপস সরকারকে চবি শাহ আমানত হলে গুলি করে হত্যা করে শাটল ট্রেনের বগিভিত্তিক আরেক গ্রুপের নেতাকর্মীরা।

অভিযোগ আছে, তৎকালীন প্রক্টর সিরাজ উদ দৌলা ছিলেন ওই গ্রুপের নিয়ন্ত্রক।

এ ঘটনার পর প্রক্টরের পদত্যাগের দাবিতে তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক আনোয়ারুল আজিম আরিফকে তার কার্যালয়ে অবরুদ্ধ করে ছাত্রলীগ। ওই দিন উপাচার্য দপ্তরে ইটপাটকেলও নিক্ষেপ করে তারা।

সিরাজ উদ দৌলা ছাত্র উপদেষ্টা হওয়ার পর তাদের অনুসারীদের সঙ্গে ছাত্রলীগ শাখা সভাপতির পক্ষের দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়।

সর্বশেষ রবিবার সন্ধ্যায় সভাপতি পক্ষের দুই নেতাকে কুপিয়ে জখম করা হয়। পরে দুই নেতাকে কোপানোর মদতদাতা ভিএক্স গ্রুপের নেতা মিজানুর রহমান বিপুল ও প্রদীপ চক্রবর্তী দুর্জয়কে অবলিম্বে গ্রেপ্তার, স্থায়ী বহিষ্কার এবং ছাত্র উপদেষ্টা সিরাজুদ্দৌলার পদত্যাগের দাবিতে ডাকা অনির্দিষ্টকালের অবরোধের ডাক দেয় তাপস স্মৃতি সংসদ।

সভাপতি রেজাউল হক রুবেলের পক্ষের ছাত্রলীগের অভিযোগ, ১৪ ডিসেম্বর তাপস হত্যার বার্ষিকী পালন বানচাল করতে সিরাজ উদ দৌলা তার বাহিনী দিয়ে ক্যাম্পাস অস্থিতিশীল করতে চাইছে।

তবে মিজানুর রহমান বিপুল উল্টো ছাত্রলীগ সভাপতির পদত্যাগ চাইছেন।

দুপক্ষের লাগাতার সংঘর্ষের জেরে রোববার থেকে থেকে সিরাজ উদ দৌলার পদত্যাগের দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে পু‌রো ক্যাম্পাস।

ছাত্রলীগ সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার থেকে চলা শাখা ছাত্রলীগের দুপক্ষের সংঘর্ষ ও শাটল ট্রেনের বগিভিত্তিক সিএফসি গ্রুপের দুই নেতাকে মারধরের ঘটনায় রোববার সন্ধ্যা থেকে সিরাজ উদ দৌলাকে তাপস সরকার হত্যার মদদদাতা হিসেবে উল্লেখ করে তার বিরুদ্ধে মিছিল করে সভাপতির অনুসারী সিএফসি গ্রু‌পের কর্মীরা। গ্রুপটি চট্টগ্রা‌ম নগর আওয়ামী লীগের প্রয়াত সভাপতি এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর অনুসারী হিসেবে ক্যাম্পাসে পরিচিত।

তারা ব‌লেন, ২০১৪ সালে প্রক্টর থাকাকালে সিরাজ উদ দৌলার প্রত্যক্ষ মদদে ছাত্রলীগকর্মী তাপসকে খুন করা হয়। ওই সিরাজকে বর্তমান প্রশাসন ছাত্র উপদেষ্টার পদে বসানোর পর থেকে আবারো তাপসের খুনীরা বেপোরোয়া হয়ে উঠেছে। র‌বিবার সিরাজ উদ দৌলার অনুসারী বিপুল ও দূর্জয়ের নের্তৃত্বে দুই ছাত্রলীগ নেতা নৃশংস হামলা চালিয়েছে।

ছাত্রলীগের এ অংশ সিরজ উদ দৌলার পদত্যাগ বা অপসারণসহ চার্জশিটভুক্ত তাপস সরকার হত্যা মামলার আসামি এবং হামলাকারী‌দের গ্রেপ্তার না হওয়া পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ করে রাখবেন বলে ঘোষণা দেন।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানায়, রবিবার রাত ৮টার দিকে বিশ্ব‌বিদ্যাল‌য়ের শাহ আমানত হলের সামনে ছাত্রলীগের কয়েক শ নেতাকর্মী জড়ো হয়ে সিরাজ উদ দৌলার বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে থাকেন। ‘এক দফা এক দাবি সিরাজ তুই কবে যাবি’, ‘সিরাজের চামড়া তুলে নেব আমরা’, ‘গেলি কই গেলি, সিরাজ তুই গেলি কই’, ‘তাপসের খুনি সিরাজ, বিচার চাই বিচার চাই’সহ নানা স্লোগান তুলে মিছিল করেন।

ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা জানান, বৃহস্প‌তিবার থে‌কে চলমান শাখা ছাত্রলী‌গের সভাপ‌তি রেজাউল হক রু‌বেল ও সিএফ‌সি গ্রু‌পের অনুসা‌রী এবং সা‌বেক উপদপ্তর সম্পাদক মিজানুর রহমান বিপু‌ল ও ভিএক্স গ্রুপের অনুসা‌রী‌দের ম‌ধ্যে অধিপত্য বিস্তার‌কে কেন্দ্র করে চলা সংঘ‌র্ষের জে‌রে র‌বিবার সন্ধ্যায় এ মারধরের ঘটনা ঘটে।

তারা জানান, প‌রে সন্ধ্যা ৭টার দিকে নি‌জে‌দের নেতাদের মারধ‌রের ঘটনায় ক্ষুব্ধ হ‌য়ে শাহ আমানত হ‌লে থাকা সিএফ‌সি এবং সোহরাওয়ার্দী হ‌লে থাকা ভিএক্স গ্রু‌পের কর্মীরা রামদা, লোহার রড, পাইপ ও দেশীয় অস্ত্রসহ মহড়া দেয়। এতে উভয়প‌ক্ষে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া এবং ইটপাট‌কেল নি‌ক্ষেপ শুরু হয়। একপর্যায়ে বিশ্ববিদ্যাল‌য়ের জি‌রো প‌য়েন্টে থাকা চ‌বি প্রক্টর এবং চট্টগ্রাম জেলা (উত্তর) পু‌লি‌শের অ‌তি‌রিক্ত পু‌লিশ সুপারের গাড়িসহ পাঁচ‌টি গাড়ি ভাংচুর ক‌রে তারা। প‌রে প‌রি‌স্থি‌তি নিয়ন্ত্রণে আনতে পু‌লিশ চার রাউন্ড টিয়ার‌শেল ও জলকামান নি‌ক্ষেপ ক‌রে।

নিউজ গার্ডিয়ান/ এমএ/