ঢাকার ৬৮ শতাংশ মানুষ কোনও না কোনও ভাবে অসুস্থ!

রাজধানীর ঢাকার ৬৮ শতাংশ মানুষই কোনও না কোনও ভাবে অসুস্থ। এছাড়াও জীবনযাত্রার মানের কারণে ঢাকার মোট জনগোষ্ঠীর ৪৪ শতাংশ মানুষই মানসিক চাপে ভুগছেন।

গবেষণা সংস্থা বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান বা বিআইডিএস’র এক গবেষণা প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে আসে। সরকারি স্বায়ত্তশাসিত এই গবেষণা সংস্থা রাজধানীর সাড়ে ৪ হাজার মানুষের ওপর এই সমীক্ষা চালায়।

সংস্থাটির সিনিয়র রিসার্চ ফেলো ড. এস এম জুলফিকার আলী বলেন, ‘বিষণ্ণতার বড় কারণ হতে পারে স্বাস্থ্য সম্পর্কিত। এছাড়াও ঢাকার ১৭ শতাংশ মানুষই দরিদ্র। অর্থনৈতিক কারণে তাদের অনেকে বস্তিতে থাকেন। অনেকের বসবাসের সংস্থানও নেই।’

অসুস্থতায় ভোগা, দারিদ্র্য, জীবনযাত্রার মান ও দৈনন্দিন জীবনের সমস্যা, নগরীর ট্রাফিক জ্যাম, বাতাসের মান, বিশুদ্ধ পানির অভাব, ইভিটিজিংসহ আরও বেশ কিছু বিষয় উঠে এসছে গবেষণা প্রতিবেদনে।

গবেষণায় এই বিষণ্ণতার সমাধানের বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছে। ‍জুলফিকার আলী বলেন, ‘এটি ঠিক শহরে মানুষ যেসব কারণে বিষণ্ণতায় আক্রান্ত হচ্ছে সেগুলোর সব রাতারাতি সমাধান সম্ভব না, তবে এমন কিছু পদক্ষেপ নেয়া যায় যা মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে সহজ করে তুলবে।’

যেমন যানজট প্রতিনিয়ত মানুষকে মানসিক চাপে ফেলছে কিন্তু রাতারাতি রাস্তাঘাট, ফ্লাইওভার, মেট্রোরেল করে এ সমস্যার সমাধান করা যাবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তার ভাষ্য, ‘এমন ক্ষেত্রে কার্যকর হতে পারে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা উন্নত করা যার মাধ্যমে যানজটের প্রকোপ ৩০/৪০ভাগ পর্যন্ত কমিয়ে আনা সম্ভব। আর সেটি হলে সার্বিক পরিস্থিতিতে প্রভাব পড়বে যা মানুষের মানসিক চাপ কমিয়ে আনতে ভূমিকা রাখবে, বলছিলেন মিস্টার আলী। আবার হাসপাতালের ক্ষেত্রে বিদ্যমান অবকাঠামোর ভেতরেই সেবাকে আরও অনেক খানি উন্নত বা এগিয়ে নেয়ার সুযোগ আছে।

এই গবেষণা মনে করেন বিষণ্ণতা কমিয়ে আনতে তিনটি বিষয়কে গুরুত্ব দেয়া উচিত। তাহলো:

১. প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করতে হবে বা যাতে কার্যকর হয় তা নিশ্চিত করতে হবে যেমন ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম খুবই দুর্বল, এটা ঠিক হলে যানজট অনেকাংশে কমিয়ে আনা যাবে।

২. নীচের দিকে জনগোষ্ঠী অর্থাৎ দরিদ্র বা প্রান্তিক জনগোষ্ঠী – তারা যাতে প্রতিষ্ঠানগুলোতে বেশি সুযোগ পায়। এখন সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে তাদের সুযোগ কম। এই বঞ্চিত জনগোষ্ঠীর সহজ প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে হবে।

৩. টার্গেটেড ইন্টারভেনশন— সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি শহরেও থাকা উচিত। যেমন বায়ু দূষণের মতো সমস্যা ব্যবস্থাপনা ও রেগুলেশনের মাধ্যমে কমিয়ে আনা সম্ভব হবে। ইটভাটার ক্ষেত্রে কিংবা যেসব গাড়ীতে কালো ধোঁয়া বা শিল্প বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এসব বিষয়ে কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণ জরুরি।

গবেষণায় উঠে আসা কিছু বিশেষ বৈশিষ্ট্য:

১. ঢাকায় অর্থ উপার্জনের সবচেয়ে বেশি থাকা সত্ত্বেও এখানেও অনেক দরিদ্র আছে।

২. ঢাকার মাত্র চার ভাগের একভাগের নিজস্ব বসবাসের জায়গা আছে।

৩. ক্ষুদ্র পেশাজীবী বা বেতনভুক্ত চাকুরেরাই পেশাজীবী গ্রুপগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করছে।

৪. অভিবাসন প্রবণতায় পরিবর্তন এসেছে। এখন উত্তরাঞ্চল থেকে বেশি লোক ঢাকায় আসছে।

৫. ট্রাফিক জ্যাম, বায়ু দূষণ, বিশুদ্ধ পানির অভাব ও বাজে রাস্তাঘাট নগরবাসীর বড় সমস্যা।

৬. আবার এসব অনেক অসুবিধা সত্ত্বেও মানুষ তেমন অসুখী নয় কারণ কাজের সুযোগের পাশাপাশি ঢাকাতেই শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা বেশি আছে।

৭. অন্যদিকে শিক্ষা নিয়েও উদ্বেগ আছে।

নিউজ গার্ডিয়ান/ এমএ/