বাংলাদেশ অংশে ভারতের অবৈধ চৌকি, সরাতে সময় চায় বিএসএফ

শূন্যরেখার বাংলাদেশ অংশ অবৈধভাবে নিরাপত্তা চৌকি বসিয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী-বিএসএফ। প্রথম বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ-বিজিবি’র চিঠি গ্রহণ না করলেও এই অবৈধ চৌকি সরাতে এখন সময় চেয়েছে বাহিনীটি।

রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে এই নিরাপত্তা চৌকিতে সীমান্তের উত্তেজনা বিরাজ করছিল। ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে সোমবার (২ ডিসেম্বর) চিঠি পাঠানোর চেষ্টা হলেও বিএসএফ তা গ্রহণ করেনি। পরে মঙ্গলবার (৩ ডিসেম্বর) পতাকা বৈঠক ডাকে বিজিবি।

সকালে এই পতাকা বৈঠকে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ-বিজিবি প্রতিবাদ জানালে বিএসএফ পাঁচদিন সময় চায় বলে বিজিবি-১ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফেরদৌস জিয়াউদ্দীন মাহমুদ জানান।

তিনি জানান, সাহেবনগর সীমান্তে বিজিবি-বিএসএফের কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক হয়েছে। সেখানে দুই দেশের বাহিনী এলাকাটির সীমানা চিহ্নিত করে। এতে দেখা গেছে বিএসএফ শূন্যরেখার ভেতরে এসে এই চৌকি স্থাপন করেছে।

তিনি বলেন, শূন্যরেখাটি নদীর মাঝখান দিয়ে গেছে। সেখানে চর জেগে উঠেছে। বিএসএফ শূন্যরেখা থেকে প্রায় ৭০ মিটার ভেতরে এসে অস্থায়ী চৌকি স্থাপন করেছে। এ নিয়ে বিজিবির উদ্বেগের বিষয়টি তাদের জানানো হয়েছে। তারা বলছে এটা অস্থায়ী। যেহেতু নিয়মের মধ্যে পড়ে না, সেই জন্য তাদের এই চৌকি সরিয়ে নেয়ার জন্য বলা হয়েছে।

বিএসএফ পাঁচ দিন সময় চেয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী সীমান্তের ১৫০ মিটার ভেতর কোনো বাহিনীরই স্থায়ী বা অস্থায়ী কোনো স্থাপনা থাকতে পারে না বলেও জানান ফেরদৌস জিয়াউদ্দীন মাহমুদ।

এলাকাবাসী জানায়, শুক্রবার রাতে বিএসএফ সদস্যরা ইঞ্জিন নৌকাযোগে চরটিতে গিয়ে রাতারাতি সেখানে বাঁশের মাচা পেতে ওপরে খড় ও পাটকাঠি দিয়ে একটি অস্থায়ী চৌকি তৈরি করেন। পর দিন শনিবার সকাল থেকে ভারতের চরলবণগোলা ফাঁড়ির বিএসএফ সদস্যরা সেখানে অবস্থান ও টহল করতে শুরু করেন।

এলাকাবাসী আরও জানায়, বিজিবি সদস্যরা রোববার দিনের বেলায় একবার ও রাতের বেলা আরেকবার চরের কাছাকাছি গিয়ে চলে যাওয়ার সিগন্যাল দিলে বিএসএফ সদস্যরা চৌকি ছেড়ে পালিয়ে যান। রাতে আবারও নৌকা যোগে গিয়ে বিএসএফ সদস্যরা চরে ওঠার চেষ্টা করলে খবর পেয়ে বিজিবি চরে গিয়ে অবস্থান নেন। এর পর বিএসএফ নৌকা ঘুরিয়ে ভারতের ভেতরে চলে যায়। তবে গভীর রাতে বিএসএফ আবারও চরের অস্থায়ী চৌকিতে গিয়ে অবস্থান নেয়। সোমবার সকালে বিজিবি সেখানে গেলে বিএসএফ চর ত্যাগ করে পালিয়ে যায়।

বিজিবি সূত্র বলছে, বিএসএফ সদস্যদের এই লুকোচুরিতে তারা বিরক্ত। এলাকাবাসী লাঠিসোটা নিয়ে গিয়ে চৌকিটি ভেঙে ফেলার জন্য বিজিবিকে চাপ দিচ্ছে। তবে তাদের অনুমতি ছাড়া কোনও ঘটনা না ঘটাতে বিজিবি গ্রামবাসীকে নিষেধ করেছে।

এলাকাবাসী জানিয়েছেন, নতুন এই চরটির সঙ্গে বাংলাদেশের মূল ভূখণ্ড সংযুক্ত। চরের আশপাশে রয়েছে বাংলাদেশের ফসলি জমি, যেখানে কৃষকরা নিয়মিত চাষাবাদের কাজ করে থাকেন। কিন্তু শুক্রবার রাত থেকে বিএসএফ অস্থায়ী চৌকি তৈরি করার পর থেকে কৃষকরা জমিতে যেতে পারছেন না। কৃষকরা তাদের নিরাপত্তার স্বার্থে চরে অস্থায়ী চৌকি তৈরির জন্য বিজিবির কাছে দাবি করেছেন।

নিউজ গার্ডিয়ান/ এমএ/