জাবিতে বেড়েছে অতিথি পাখি

তহিদুল ইসলাম:

বিগত বছরগুলোর চেয়ে এ বছর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) আসা অতিথি পাখির সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪টি লেক ইতোমধ্যে নানা প্রজাতির অতিথি পাখির কলকাকলিতে মুখরিত হয়ে উঠেছে। পাখি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ক্যাম্পাসে দর্শনার্থীর চাপ কম থাকায় অতিথি পাখির সংখ্যা বেড়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছোট বড় প্রায় এক ডজন লেকের মধ্যে পুরাতন প্রশাসনিক ভবনের সামনের লেক, পরিবহন চত্ত্বরের পেছনের লেক, সুইমিংপুল সংলগ্ন জয়পাড়া লেক ও ওয়াইল্ড লাইফ রেসকিউ সেন্টারের অভ্যন্তরের লেকে অতিথি পাখি এসেছে। এর মধ্যে ওয়াইল্ড লাইফ রেসকিউ সেন্টারের অভ্যন্তরের লেকটি সাধারণের প্রবেশাধিকার সংরক্ষিত। তবে অন্য লেকগুলো দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত রয়েছে।

পাখি বিশেষজ্ঞরা জানান, প্রতি বছর শীতের শুরুতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অতিথি পাখি এসে থাকে। সাধারণত তীব্র শীত থেকে বাঁচতে হিমালয়ের পার্শ্ববর্তী অঞ্চল থেকে এখানে অতিথি পাখি আসে। তবে দর্শনার্থীদের উৎপাতের কারণে বিগত ৫-৭ বছর ধরে ক্যাম্পাসে আসা অতিথি পাখির সংখ্যা পূর্ববর্তী সময়ের তুলনায় কম ছিল।

তাছাড়া সাধারণত শীতের শেষে অতিথি পাখিরা ক্যাম্পাস ত্যাগ করলেও দর্শনার্থীদের উৎপাতে এই সময়ে আগেভাগেই ক্যাম্পাস ছাড়ে অতিথিরা। তবে এবার ক্যাম্পাস বন্ধ থাকায় দর্শনার্থীদের ভিড় কম। আর এ কারণেই অতিথি পাখির সংখ্যা বেড়েছে।

পাখি বিশেষজ্ঞ ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ মোস্তফা ফিরোজ বলেন, “অন্যান্যবার দর্শনার্থী বেশি থাকে। তারা পাখিদের উত্যক্ত করে। এজন্য পাখি কম থাকে। এবার দর্শনার্থী কম থাকায় অতিথি পাখি বেশি এসেছে। এতে প্রমাণ হলো- দর্শনার্থীর ভিড় না থাকলে পাখি বেশি আসবে।”

অধ্যাপক মোহাম্মদ মোস্তফা ফিরোজ জানান, এবার ক্যাম্পাসের লেকগুলোতে ৬-৭ প্রজাতির ১৫ থেকে ২০ হাজার অতিথি পাখি এসেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি এসেছে ছোট সরালি। এছাড়াও রয়েছে বড় সরালি, লেঞ্জা হাঁস, গারগেনি, রাইনেক, খঞ্জনা, টাইগা (ঞধরমধ) প্রভৃতি। এর মধ্যে রাইনেক আসে কাশ্মির থেকে। এছাড়া অন্য পাখিরা আসে সাধারণত হিমালয়ের আশেপাশের অঞ্চল থেকে।

বন্যপ্রাণি বিশেষজ্ঞ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের মওলানা ভাসানী হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক মো. কামরুল হাসান জানান, চলতি বছরের ৪ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়াইল্ড লাইফ রেসকিউ সেন্টারের অভ্যন্তরের লেকে প্রথম অতিথি পাখি আসে। এরপর অক্টোবরের দ্বিতীয় সপ্তাহে অন্যান্য লেকে আসতে শুরু করে। প্রথম দিকে সংখ্যা কম থাকলেও বন্ধকালীন ক্যাম্পাসে দর্শনার্থীদের চাপ কম থাকায় অতিথি পাখির সংখ্যা ক্রমান্বয়ে বেড়েছে।

এদিকে অতিথি পাখির নিরাপদ পরিবেশ তৈরিতে পুরাতন প্রশাসনিক ভবনের সামনের লেক ও পরিবহন চত্ত্বরের পেছনের লেক সংলগ্ন এলাকায় গাড়ি পার্কিং নিয়ন্ত্রণের ওপর জোর দিয়েছেন এই দুই অধ্যাপক।

অধ্যাপক মোহাম্মদ মোস্তফা ফিরোজ বলেন, “পাখির জন্য নিরাপদ পরিবেশ রাখতে নতুন কলা ভবন থেকে চৌরঙ্গী মোড় পর্যন্ত গাড়ি পার্কিং কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা প্রয়োজন।”

আর অধ্যাপক মো. কামরুল হাসান বলেছেন, “অতিথি পাখি জাহাঙ্গীরনগরে নিরাপদ বোধ করে। কারণ এখানে কেউ অতিথি পাখি শিকার করে না। অন্যান্য অনেক ভাবে উত্ত্যক্ত হয়। তারপরও তারা এখানে আসে। তাই দর্শনার্থীরা যেন অতিথি পাখিকে বিরক্ত না করে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।”

অন্যদিকে অতিথি পাখির জন্য জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬টি লেক লিজমুক্ত রাখা হয় বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়টির মুখ্য উদ্যানতত্ত্ববিদ ও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (এস্টেট) মো. নুরুল আমিন।

এছাড়া পাখিদের জন্য লেক প্রস্তুত, রক্ষণাবেক্ষণ, সচেতনতামূলক ব্যানার-ফেস্টুন তৈরি প্রভৃতি ক্ষেত্রে বছরে লক্ষাধিক টাকা ব্যয় হয় বলেও জানান তিনি। নুরুল আমিন বলেন, “অতিথি পাখি বসার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬টি লেক লিজ দেওয়া হয় না। এর মধ্যে পাখিদের উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিতে প্রতি বছর পুরাতন প্রশাসনিক ভবনের সামনের লেক ও পরিবহন চত্ত্বরের পেছনের লেক সংস্কার করা হয়। এবারও মে মাসে এই দুইটি লেকের কচুরিপনা ও আবর্জনা পরিস্কার করা হয়েছে। এছাড়া সচেতনতামূলক ব্যানার ফেস্টুন তৈরি করা হয়েছে।”

নিউজ গার্ডিয়ান/ এমএ/