আবারও রফতানি আয়ে ধস

আবারও ধসে নেমেছে বাংলাদেশের রফতানি আয়। আগের বছরের তুলনায় ২০১৯-২০ অর্থবছরের নভেম্বর মাসে রফতানি আয় কমেছে। আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে ৭ দশমিক ৫৯ শতাংশ কমেছে। যা নভেম্বর মাসে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১২ দশমিক ৫৯ শতাংশ।

২০১৮-১৯ অর্থ বছরের অক্টোবর মাসের তুলনায় নভেম্বর মাসে রফতানি আয় কমেছিল ৬ দশমিক ৮২ শতাংশ।

বৃহস্পতিবার (৫ ডিসেম্বর) রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে পাওয়া গেছে।

প্রতিবেদনের তথ্যে পাওয়া গেছে, ২০১৯-২০ অর্থবছরে প্রথম পাঁচ মাসে (জুলাই-নভেম্বর) রফতানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল এক হাজার ৮০৫ কোটি মার্কিন ডলার। কিন্তু, আয় হয়েছে এক হাজার ৫৭৭ কোটি ৭০ লাখ ডলার, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১২ দশমিক ৫৯ শতাংশ কম।

ইপিবির তথ্য অনুযায়ী, একক মাস হিসাবে নভেম্বরে রফতানি আয় হয়েছে ৩০৫ কোটি ৫৮ লাখ ডলার, কিন্তু টার্গেট ছিল ৩৭২ কোটি ২০ লাখ ডলার। অর্থাৎ টার্গেটের তুলনায় নভেম্বরে রফতানি আয় কমেছে ১০ দশমিক ৭০ শতাংশ। আর গত বছরের নভেম্বরে রফতানি আয় হয়েছিল ৩৪২ কোটি ১৯ লাখ ডলার। ফলে একক মাস হিসাবে প্রবৃদ্ধি কম হয়েছে ১৭ দশমিক ৯০ শতাংশ।

২০১৯-২০ অর্থবছরে প্রথম পাঁচ মাসে তৈরি পোশাক খাতে ১ হাজার ৩০৮ কোটি ৮৬ লাখ টাকা আয় হয়েছে, যা গত বছরের চেয়ে ৭ দশমিক ৭৪ শতাংশ এবং লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১৩ দশমিক ৬৩ শতাংশ কম। গত বছর একই সময়ে এ খাতে আয় হয়েছিল ১ হাজার ৪১৮ কোটি ৮২ লাখ টাকা।

তবে হোমটেক্স, টেরিটাওয়েলসহ এ খাতের অন্য পণ্যগুলোকে রফতানির উপখাত হিসাব করলে তৈরি পোশাক খাতের অবদান ৮৫ শতাংশে দাঁড়াবে। তাই তৈরি পোশাকের রফতানি কমলে তার প্রভাব পড়ে পুরো রফতানি খাতে।

এছাড়াও চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, কৃষিপণ্য এবং প্লাস্টিক পণ্যসহ অন্যান্য বড় বড় খাতগুলোতেও রফতানি আয় কমেছে। পাঁচ মাসে চামড়াজাত খাত থেকে রফতানি আয় এসেছে ৩৯ কোটি ১০ লাখ ডলার, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৯ দশমিক ৮ শতাংশ কম। প্রবৃদ্ধিও কমেছে ১০ দশমিক ০৩ শতাংশ। কৃষিপণ্য রফতানিতে আয় আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে ২ দশমিক ৬৯ শতাংশ কমে ৪৪ কোটি ৬৩ লাখ ডলার হয়েছে। প্লাস্টিক পণ্য রফতানির প্রবৃদ্ধি বাড়লেও লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে আয় কমেছে ১৭ দশমিক ৮৫ শতাংশ। পাঁচ মাসে এ খাতে আয় হয়েছে ৪ কোটি ৮৮ লাখ ডলার।

তবে আশার মুখ দেখিয়েছে পাট ও পাটজাত পণ্য রফতানি। একই সময়ে তবে একই সময়ে পাট ও পাটজাত পণ্য রফতানি বেড়েছে। পাট ও পাটজাত পণ্য রফতানি করে বাংলাদেশ আয় করেছে ৪০ কোটি ৪৭ লাখ ডলার, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২৩ দশমিক ৮৩ শতাংশ বেশি। প্রবৃদ্ধিও গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ১৫ দশমিক ১৬ শতাংশ বেড়েছে।

নিউজ গার্ডিয়ান/ এমএ/