করোনার সময়ে ঘরে বসে অফিসের কাজ সারতে করণীয়

আব্দুল্লাহ আল মাছুম

বৈশ্বিক মহামারির রূপ পাওয়া করোনা ঘরবন্দী করেছে বিশ্বের শত কোটি মানুষকে। করোনার বিস্তার ঠেকাতে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে কার্যকর বিবেচিত ‘লক ডাউন’ কর্মসূচি বিভিন্ন দেশ প্রয়োগ করছে। বাংলাদেশেও করোনার ছোবল ঠেকাতে রাষ্ট্রীয়ভাবে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে বন্ধ হয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শিল্প-কারখানা, সরকারী ও বেসরকারী প্রায় সব প্রতিষ্ঠান। কিন্তু তবুও জীবন থেমে নেই। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাজের ধরন এমন যে, তারা চাইলেও
সবকিছু স্থগিত করতে পারেনা। এসব প্রতিষ্ঠান বিশেষ করে বেসরকারী সেবাপ্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের কর্মীদের বাসায় থেকে কাজের সুযোগ দিয়েছে। কিন্তু ব্যক্তিভেদে বাসায় কাজ করা চ্যালেঞ্জিং। তবে কিছু টিপ্স অনুসরণ করলে ‘ট্র্যাক ও প্রোডাক্টিভ’ থাকা সম্ভব।

স্থান নির্দিষ্ট করুন: বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে অধিকাংশের ঘরই জনাকীর্ণ থাকে। এর মধ্যেও আপনার একটু নিরীবিলি পরিবেশ চাই। হয়তো পুরোপুরি মনের মতো হবে না কিন্তু ঘরের অপেক্ষাকৃত উপযুক্ত স্থানটি বাছাই করে পরিস্কার করে নিন। মাথায় রাখবেন সেটি যেন আপনাকে আইসোলেট করে। এতে মানসিক প্রস্তুতি ও
বাসার অন্য সদস্যদের বিরক্তির কারণ হওয়া থেকে মুক্তি দিবে। অফিসের কাগজ-পত্র
দিয়ে সাজিয়ে নিন। অফিসে ব্যবহৃত চেয়ারের মতো চেয়ার ব্যবহারের চেষ্টা করুন।

জামা-কাপড় ও রুটিন: স্বাভাবিক সময়ে অফিসে যেসব জামা-কাপড় পড়ে যেতেন সেভাবে পরিপাটি হয়ে কাজ শুরু করুন। বাসায় আছেন বলে খেয়াল খুশি মতো কাজ করলে হবে না। অবশ্যই শুরু ও শেষের সময় নির্দিষ্ট থাকতে হবে। দিনে কী
কী করবেন, কখন বিরতি নিবেন সব কিছুর রুটিন করে নিন। বিরতি ও অন্যান্য কাজের সময় ঠিক রাখতে এলার্ম বা টাইমার ব্যবহার করতে পারেন। কাজ শেষে ফাইলপত্র সব ঘুছিয়ে ফেলুন।

যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়া যাবে না: কর্মীরা বাসায় বসে কাজ করলে কাজে অমনোযোগী ও নির্জীব থাকে। এই ধারনা বসদের মনে বদ্ধমূল হয়ে রয়েছে। আপনি সত্যিই প্রোডাক্টিভ রয়েছেন কিনা তা প্রতিনিয়ত দায়িত্ব পাওয়া কাজের আপডেটের মাধ্যমে অফিসকে জানাতে হবে। বস, টিম মেম্বার,
ক্লায়েন্টদের সঙ্গে কোন পদ্ধতিতে যোগাযোগ করলে ফলপ্রসু হবে তা খুঁজে বের করতে হবে। ব্যক্তিভেদে এই মাধ্যম ভিন্ন হয়। কেউ টেক্সট, কেউ ভিডিও কল, কেউ অডিও কল পছন্দ করে। এক্ষেত্রেও স্কাইপ, ই-মেইল, ফোন, হোয়াটসঅ্যাপ কোনটি ব্যবহার করবেন তা ঠিক করতে হবে। গুগল ডকের মাধ্যমে সহকর্মীদের সঙ্গে আপডেটেড থাকতে পারেন।

শিশুর সঙ্গে রাগারাগি নয়: বিশেষ করে নারীদের জন্য বাসায় বসে অফিসের কাজ আর নাইট ক্লাবে বই পড়া একই কথা। এক্ষেত্রে শিশু যখন ঘুমায় বা অন্যকাজে ব্যস্ত থাকার সময়ে অফিসের কাজ করার চেষ্টা করুন। অনলাইন যোগাযোগে হেডফোন ব্যবহার করুন। ক্লায়েন্টের সঙ্গে কথা বলার সময় শিশু চেঁচামেচি শুরু করলে
সাময়িক সময়ের জন্য ফোনের মিউট বাটন ব্যবহার করুন। জরুরি কলের আগে শিশুকে বুঝিয়ে বলুন। প্রয়োজনে দরজা বন্ধ করে কথা শেষ করুন। এসময় হয়তো শিশু দরজা ধাক্কাবে ও কাঁদবে। তবু কখনো শিশুর সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করা যাবেনা। শিশুর কাছে প্রোফেশনালিজমের মডেল হয়ে আবির্ভূত হন। শিশুকেও বিভিন্ন
সৃজনশীল কাজে ব্যস্ত রাখার চেষ্টা করুন।

নিয়মিত বিরতি: কাজের ফাঁকে ছোট ছোট বিরতি নিন। একসঙ্গে বেশি না খেয়ে বারবার পুষ্টিকর খাবার খান। এতে বিরক্তি কম হবে। মন শান্ত থাকবে।

শারীরিক ও সৃজনশীল কাজ: এই সময় সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা ও বাসায় নানাবিধ ঝামেলা সামলে অফিসের কাজ চালু রাখার ফলে মানসিক চাপ বাড়তে পারে। সেজন্য আপনাকে নিয়ম করে ব্যয়াম করতে হবে। প্রতিদিন কিছু না কিছু সৃজনশীল কাজে নিজেকে ব্যস্ত রাখতে হবে।

বাসা ও অফিসের পার্থক্য স্মরণ রাখা: মনে রাখতে হবে আপনি বাসায় রয়েছেন। কখনোই সম্পূর্ণ অফিসের শিডিউল পালন করার চেষ্টা করবেন না। অফিসের মতো আউটকাম আশা করলে মানসিক অস্বস্থি বাড়বে। কাজের অজুহাতে নিজেকে সম্পূর্ণ আইসোলেটেড করাও যাবেনা। এই সময় পরিবারের প্রায় সব সদস্য বাসায় রয়েছেন। তাদের সঙ্গে কথা বলুন। একসঙ্গে টিভি দেখুন। খাবার খান। মুঠোফোনে আত্মীয়দের খোঁজ নিন। প্রয়োজনে তাদের সহযোগিতা নিন। সময়ে সময়ে হাসি-ঠাট্টা ও ঘরোয়া খেলায় অংশ নিন। তাহলে এই পরিস্থিতিতে বাসায় বসে অফিসের কাজ করার সুযোগ আপনার কাছে বোঝা নয় বরং হয়তো নেয়ামত মনে হবে।

লেখক: শিক্ষার্থী, সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম অধ্যয়ন বিভাগ, ৪৫তম ব্যাচ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়।

নিউজ গার্ডিয়ান/ এমএ/