জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ (জাকসু) নির্বাচনের দাবিতে সংহতি সমাবেশ করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট (মার্কসবাদী)।
সোমবার (০৪ ফেব্রুয়ারি) ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মুরাদ চত্ত্বরে এই সমাবেশ শুরু হয়।
এতে সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের নেতাকর্মীরাসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
সমাবেশে উপস্থিত হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের অধ্যাপক নূরুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা মনে করি অতিদ্রুত সময়ের মধ্যে জাকসু হওয়া উচিত। তবে তার আগে আবাসিক হলগুলোতে ছাত্রদের সহাবস্থান নিশ্চিত করতে হবে।’
অধ্যাপক আনোয়ারুল্লাহ ভূঁইয়া বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় অ্যাক্টে সরাসরি বলা আছে বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য নির্বাচিত করতে হলে ছাত্রদের অংশগ্রহণ থাকা লাগবে। কিন্তু আমরা গত ২৬ বছর দেখছি ছাত্রদের অবহেলা করা হচ্ছে। পরিতাপের বিষয় আমরা দেখছি নিয়মিত সিনেট হচ্ছে সিন্ডিকেট হচ্ছে শুধু হচ্ছে না জাকসু। আমরা চাইব শিগগিরই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জাকসুর পরিবেশ সৃষ্টি করার মাধ্যমে জাকসু নির্বাচনের আয়োজন করবে।’
দর্শন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক জহির রায়হান (রায়হান রাইন) বলেন, ‘জাকসু থাকলে বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনায় শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হবে। তাই আমরা চাই জাকসু হোক।’
ইতিহাস বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আনিছা পারভীন জলী বলেন, জাকসু নির্বাচন না থাকার কারণে শিক্ষার্থীরা ৬০ লক্ষ টাকার নিয়োগ বাণিজ্যে জড়িয়ে পড়েছেন। এই শিক্ষার্থী এমন ছিলনা। তাকে এমনটা বানিয়েছে ক্ষমতাসীন ছাত্র সংগঠন।’
তিনি বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের গুরুত্বপূর্ণ বডি হিসেবে কাজ করার জন্য জাকসু জরুরী। বিশ্ববিদ্যালয়ে কত উন্নয়ন হয় কিন্তু শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় পূর্ণাঙ্গ লাইব্রেরী হচ্ছেনা। এসব হচ্ছেনা জাকসু না থাকার কারণে। তাই অতি দ্রুত জাকসু নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে হবে।’
বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের কেন্দ্রীয় কমিটির প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক রাফিকুজ্জামান ফরিদ বলেন, ‘স্বৈরাচার আমলে ছাত্র সংসদ নির্বাচন থাকলেও আজ গায়ের জোরের গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায় তা দেখছি না। প্রশাসন তার দখলদারিত্ব বজায় রাখার জন্য ছাত্র সংসদের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে বরাবর এড়িয়ে চলছে। আমরা এই ছাত্র সংসদের জন্য নিয়মিত লড়াই করছি। আশা করব বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দ্রুততম সময়ের মধ্যে ছাত্র সংসদের আয়োজন করবে।’
সামবেশে সভাপতিত্ব করেন ছাত্র ফ্রন্ট জাবি শাখার সাধারণ সম্পাদক মাহাথির মুহাম্মদ। এছাড়া সমাবেশে সংহতি জানিয়ে উপস্থিত ছিলেন জাহাঙ্গীরনগর সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম পাপ্পু, কোষাধ্যক্ষ মারুফ মোজাম্মেল প্রমুখ।
নিউজ গার্ডিয়ান/ ০২:০৫/এমএ/